দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া দেখা গেল ভবানীপুরে। ভাইয়ের মৃত্যুর পরে দেহ আগলে রাখলেন দিদি। পরে দুর্গন্ধ বের হতে দরজা খুলে উদ্ধার হল সেই দেহ। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভবানীপুরের ওই আবাসনে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তির নাম শান্তনু দে। তাঁর বয়স ৪৮। দিদি মহাশ্বেতা দে’র সঙ্গে ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। কয়েক দিন আগে ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকারের কাছে কিছু চাল-ডাল চান মহাশ্বেতাদেবী। চাল-ডাল দিতে গিয়ে ফ্ল্যাটের মধ্যে থেকে একটা গন্ধ পান ওই কেয়ারটেকার। সে ব্যাপারে মহাশ্বেতাদেবীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এড়িয়ে যান। এই ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় কাউন্সিলর অসীম বসুকে জানান ওই কেয়ারটেকার।
জানা গিয়েছে, দিন দিন ওই ফ্ল্যাটের মধ্যে থেকে গন্ধ বাড়তে থাকে। তখন ফের একবার কাউন্সিলরকে তা জানালে অসীমবাবু ওই কেয়ারটেকারকে আরও কিছু চাল-ডাল নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে যেতে বলেন। মহাশ্বেতাদেবী ফ্ল্যাটের দরজা খোলার সঙ্গে একটা উগ্র পচা গন্ধ পান ওই কেয়ারটেকার। তিনি কারণ জিজ্ঞাসা করলে মহাশ্বেতাদেবী তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করে দেন। সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের একথা জানান ওই কেয়ারটেকার।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিবেশীরা সবাই মিলে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন একটি ঘরে বিছানার মধ্যে একটা কঙ্কালসার দেহ পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে কাউন্সিলর ও ভবানীপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। কী ভাবে শান্তনুবাবুর মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের পরেই জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এই ফ্ল্যাটের আগে সেখানেই মহাশ্বেতাদেবী ও শান্তনুবাবুর বাড়ি ছিল। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর সেখানে ফ্ল্যাট হয়। একটি ফ্ল্যাটে ভাই-বোন থাকতেন। বাইরে খুব একটা কারও সঙ্গে মিশতেন না তাঁরা। হঠাৎ শান্তনুবাবু কী ভাবে মারা গেলেন, তা বুঝতে পারছেন না কেউ। প্রতিবেশীদের কাইকেই কিছু জানাননি মহাশ্বেতাদেবী।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে ওই ফ্ল্যাটেই রয়েছেন মহাশ্বেতাদেবী। তাঁর দেখভালের জন্য দু’জনকে রাখা হয়েছে। মহাশ্বেতাদেবীর মানসিক সমস্যা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।