দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরে ফের ডেঙ্গির বলি এক কিশোর। শনিবার সকালে মৃত্যু হয়েছে রিপন স্ট্রিটের শেরিফ লেনের বাসিন্দা বছর বারোর মহম্মদ আহমেদের। জানা গিয়েছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার জ্বর নিয়ে লেনিন সরণির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয় ওই কিশোর। শুক্রবার রাত থেকেই অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে ওই কিশোরের। শনিবার সকাল সাড়ে ছ'টা মাগাদ মৃত্যু হয় মহম্মদ আহমেদের। হাসপাতাল সূত্রে খবর, রক্ত পরীক্ষার পর মহম্মদের রক্তে মিলেছিল ডেঙ্গির নমুনা। তার ডেথ সার্টিফিকেটেও উল্লেখ রয়েছে ডেঙ্গির।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল দশ বছরের আরুষ দত্তের। মানিকতলার বাসিন্দা আরুষ ছিল সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ছাত্র। জানা গিয়েছিল, ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে জ্বরে ভুগছিল সে। শনিবার তাকে ভর্তি করা হয় ফুলবাগানের একটি নার্সিংহোমে। রক্ত পরীক্ষার পর জানা যায় ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছ আরুষ। কিন্তু ওই হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক কেয়ার ইউনিট না থাকায় সোমবার রাতে বাচ্চাটিকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও ছোট্ট আরুষের শরীরের কোনও উন্নতি হয়নি। বরং ধীরে ধীরে আরও খারাপ হয় তার অবস্থা। ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৫টা নাগাদ চিকিৎসকরা আরুষকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আরুষের বাবা জানিয়েছেন, ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে সিভিয়ার ডেঙ্গির উল্লেখ রয়েছে।
কেবল আরুষ বা মহম্মদ আহমেদ নয় ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছে সল্টলেকের বাসিন্দা দুই স্কুল পড়ুয়ারও। এনআরএস হাসপাতালে মৃত্যু হয় সল্টলেকের দত্তাবাদের বাসিন্দা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আকাশ চৌধুরীর। তার আগে দত্তাবাদ এলাকাতেই ডেঙ্গির হানায় মৃত্যু হয়েছিল সল্টলেক পয়েন্ট স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র নারায়ণ শ্রেষ্ঠর।
গত বছর শহর ও শহরতলিতে ডেঙ্গি কার্যত মহামারীর আকার নিয়েছিল। শিশু, কিশোর, মহিলা, বৃদ্ধ কেউ বাঁচেনি এই মারণ রোগের থাবা থেকে। তাই এ বছর বর্ষার আগে থেকেই ডেঙ্গি প্রতিরোধে সক্রিয় ছিল পুরসভা। এমনকী পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সব পুর প্রতিনিধিদের ডেকে রীতিমতো নীল নকশা তৈরি করেছিলেন ডেঙ্গি দমনের। কিন্তু তারপরেও ডেঙ্গিতে মৃত্যু প্রমাণ করে দিচ্ছে এখনও পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি এই মারণ রোগ। কারণ ছবিটা চলতি বছরেও একই।