দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় দেড় দিন। এখনও জ্বলছে বাগরি মার্কেট। দমকল কর্মীরা আগুনের লেলিহান শিখা বাগে আনতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। ঘড়ির কাঁটায় সময় যতই এগোচ্ছে মার্কেটের উপরের তলা থেকে ভেঙে পড়ছে চাঙড়। আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁরা জানিয়েছেন, বড় বড় ফাটল দেখা গিয়েছে দেওয়ালে। যেকোনও মুহুর্তে ভেঙে পড়তে পারে বাগরি মার্কেট। এমনটাই আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, সোমবার সকালেও নতুন করে আগুন ছড়ায় মার্কেটের তিন এবং চার দলায়। আপাতত বাগরি মার্কেটের পাশের বিল্ডিং থেকে জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন দমকল কর্মীরা। আনা হয়েছে হাইড্রলিক ল্যাডারও।
শনিবার রাত আড়াইটে নাগাদ আগুন লাগে ক্যানিং স্ট্রিটের বাগরি মার্কেটের একতলায়। দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে উপরের অংশে। ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে প্রায় ৪০০ দোকান। স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ছয় তলা উঁচু এই মার্কেটে রয়েছে প্রচুর ওষুধের দোকান। সঙ্গে রয়েছে কসমেটিক্স এবং পারিফিউমের দোকান এবং গোডাউনও। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। মার্কেটের ভিতর মজুত ছিল প্রচুর দাহ্য পদার্থ যেমন প্লাস্টিক, পারফিউম, কাগজের পেটি, ওষুধের রাসায়নিক ইত্যাদি। আর এইসবের কারণেই ভয়াবহ আকার নেয় আগুন। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে গোটা মার্কেট। প্রথম ১০ ঘণ্টা বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই পারেননি দমকল কর্মীরা। তারপর ধীরে ধীরে গ্যাস কাটার দিয়ে গ্রিল কেটে, জানলার কাঁচ ভেঙে ভিতরে জল দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। কিন্তু জলের ঝাপটায় আগুন নেভার বদলে বাড়তে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভিতর থেকে ক্রমাগত গ্যাস সিলিন্ডার এবং এসি মেশিনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তীব্র আগুনে ঝলসে গিয়েছে বাড়ির দেওয়াল।
পুজোর আগে এই ভয়ানক আগুনে ক্ষতি হয়েছে প্রায় কয়েক কোটি টাকার। মাথায় হাত পড়েছে ব্যবসায়ীদের। প্রায় সকলেই বলছেন, “সব শেষ হয়ে গেল।“ যুদ্ধকালীন তৎপরতায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দমকম কর্মীরা। কিন্তু নিভছে না আগুন। বরং স্থানীয়দের মনে বারবার ফিরে আসছে প্রায় চারদিন ধরে জ্বলতে থাকা নন্দরাম মার্কেটের ভয়াবহ স্মৃতি।