দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ সকালে কলকাতায় সিবিআই অফিসে হাজির হন গরুপাচার কাণ্ডে ধৃত এনামুল হক। তবে নিজাম প্যালেসে ঢোকার আগে একপ্রস্থ বাহানা করেন তিনি। বলেন, তাঁর নাকি করোনা হয়েছে। তাই ভিতরে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে বেশিক্ষণ এসব টালবাহানা, জারিজুরি খাটেনি। শেষ পর্যন্ত নিজাম প্যালেসে ঢুকতেই হয় তাঁকে।
গরু পাচার কাণ্ডে দিল্লিতে এনামুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বাংলায় আনার কথা থাকলেও তাঁকে আনা হয়নি। দিল্লির বিশেষ সিবিআই আদালত আজ ৯ নভেম্বর সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে। তবে তার পাশাপাশি এনামুলকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে এই সময়ের মধ্যে তাঁকে কলকাতার সিবিআই দফতরে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
দিল্লির বিশেষ সিবিআই আদালতের নির্দেশ অনুসারে আজ বেলা পৌনে এগারোটা নাগাদ নিজাম প্যালেসে সিবিআইয়ের অফিসে আসেন এনামুল। কিন্তু বিল্ডিংয়ের নীচে গাড়িতে বসেই সিবিআই অফিসারদের কাছে ফোনে তিনি দাবি করেন, তাঁর করোনা হয়েছে। তাই তিনি সিবিআই দফতরের ভিতরে যেতে পারবেন না। এনামুলের দাবি শুনে তাঁর কোভিড রিপোর্ট দেখতে চান সিবিআই কর্তারা। কিন্তু তখন রিপোর্ট দেখাতে পারেননি এনামুল। শেষমেষ একপ্রকার বাধ্য হয়ে সিবিআই দফতরে যান তিনি। জানা গিয়েছে, গরু পাচার কাণ্ডে আজ তাঁকে জেরা করবেন সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিনভর গরু পাচারের তদন্তে কলকাতার একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। বিএসএফ কর্তা সতীশ কুমারের সূত্র ধরেই এনামুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। সতীশ কুমারের সল্টলেকের বাড়ি এবং মানিকতলার এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়েছিলেন সিবিআই গোয়েন্দারা। এরপর শুক্রবার দিল্লিতে গ্রেফতার করা হয় এনামুল হককে।
শুক্রবার গ্রেফতারের পর শনিবার এনামুলকে কলকাতায় এনে তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা ছিল সিবিআইয়ের। কিন্তু ট্রানজিট রিমান্ডের জন্য এনামুলকে আদালতে তোলার পর সিবিআইয়ের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এনামুলের আইনজীবীরা তাঁর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিনের আবেদন করেন। এর পর এনামুলকে শর্ত সাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন দেয় দিল্লির বিশেষ সিবিআই আদালত।