দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ভিক্ষে করতে এসে এভাবে টাকার ব্যাগ ছিনতাই করে যে দুই নাবালক-নাবালিকা চম্পট দেবে তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। তাও আবার হাসপাতাল চত্বর থেকে। এই ঘটনার পরেই পুলিশ অভিযোগ করেন ওই অধ্যাপকের পুত্রবধূ। তারপরেই তদন্তে নেমে বানজারা গ্যাংয়ের নাম উঠে আসছে। এভাবে অল্পবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের দিয়ে ভিক্ষা চাওয়ানোর নাম করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ক্রমেই তারা আরও সক্রিয় হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল?
সল্টলেকের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দীপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী অসুস্থ। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য এজেসি বোস রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শনিবার সকালে আসেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর পুত্রবধূ মহুয়া চক্রবর্তী। হাসপাতালের ভিতরে গাড়ি থেকে নেমে শাশুড়িকে নিয়ে ভিতরে চলে যান মহুয়া। অন্যদিকে গাড়ির ভাড়া মেটাচ্ছিলেন দীপেন্দ্রনাথ। ঠিক সেই সময়েই নাকি দু’জন বাচ্চা ছেলে-মেয়ে তাঁর সামনে এসে ভিক্ষা চান। হাসপাতালের এক কর্মী নাকি বাচ্চা ছেলে-মেয়ে দু’জনকে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।
জানা গিয়েছে, তাদের বারবার চলে যেতে বললেও তারা বৃদ্ধের হাত-পা ধরে ভিক্ষে চাইতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরে হঠাৎই দৌড়ে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে তারা মিলিয়ে যায়। এই ঘটনায় অবাক হলেও সেসব নিয়ে বিশেষ কিছু ভাবেননি দীপেন্দ্রনাথ। কিন্তু আসল বিষয়টা তিনি বুঝতে পারেন কিছুক্ষণ পরে। স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর পরে ফি দেওয়ার সময় তিনি দেখেন তাঁর টাকা ভর্তি ব্যাগটি হাওয়া।
তারপরেই হাসপাতালের এক কর্মীকে নিয়ে শেক্সপিয়র সরণি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন মহুয়া। তদন্তে নেমে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ও আশেপাশের দোকানদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দু’জনকে চিহ্নিত করতে চাইছে পুলিশ। বৃদ্ধের অভিযোগ, একজন তাঁকে টাকার জন্য রীতিমতো বিরক্ত করছিল। অন্যজন পা ধরেছিল। তখনই কোনও ভাবে তাঁর অন্যমনস্কতার সুযোগে তাঁর টাকার ব্যাগ ছিনতাই করে চম্পট দিয়েছে তারা।
জানা গিয়েছে, শনিবার শুধু দীপেন্দ্রনাথ নয়, ওই এলাকায় একইভাবে আরও এক মহিলার টাকার ব্যাগ ছিনতাই হয়েছে। তাঁর কাছেও ভিক্ষে চাওয়ার নামে কয়েকজন বাচ্চা আসে। তারপরে তাঁকে রীতিমতো বিরক্ত করার মাঝে টাকার ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেয় তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বানজারা গ্যাং। বাচ্চা ছেলে-মেয়েদের কাজে লাগায় তারা। বেশিরভাগই পথশিশু। সামান্য টাকার জন্য তারা এই কাজ করে। বাচ্চাদের দিকে কারও সন্দেহ হবে না বলেই এভাবে ছিনতাইয়ের কাজে তাদের ব্যবহার করে তারা। পুজোর আগে তাদের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। মূলত ভিড় স্টেশন বা হাসপাতালে এরা ছিনতাইয়ের কাজ করে।
ইতিমধ্যেই কলকাতায় বানজারা গ্যাংয়ের কিছু সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের জেরা করে বাকি মাথাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে তারা।