দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আবহে বেশ কয়েক মাস বন্ধ থাকার পরে অক্টোবর মাসে ফের খুলে গিয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানা। তবে জানানো হয়, ১০ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের চিড়িয়াখানায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। তার ফলে সমস্যায় পড়েছিলেন অনেকে। বাচ্চাদের জন্যই তো চিড়িয়াখানায় যাওয়া, তাদের ঢুকতে না দিলে আর খুলে রেখে কী হবে, এই প্রশ্নই তুলেছিলেন অনেকে। অবশেষে সিদ্ধান্তে বদল করল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। জানিয়ে দেওয়া হল এবার থেকে ১০ বছরের কম বয়সী বাচ্চারাও চিড়িয়াখানায় ঢুকতে পারবে।
অক্টোবর মাসে চিড়িয়াখানা খোলার পর থেকে ধীরে ধীরে দর্শক বাড়ছিল। কিন্তু বাচ্চাদের ঢোকার অনুমতি না দেওয়ায় সমস্যা হচ্ছিল। অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছিল। তাছাড়া অনেক বাবা-মা আবেদন নিবেদন করছিলেন, যাতে বাচ্চাকে নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়। কিন্তু চিড়িয়াখানার কর্মীরা অনেক বুঝিয়ে তাঁদের বাড়ি পাঠাতেন। দুর্গাপুজোর সময় অবশ্য বন্ধ ছিল চিড়িয়াখানা। তারপরে ফের গেট খুলতেই দেখা যায় একই ছবি।
জানা গিয়েছে, একটা সময়ের পরে ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙতে থাকে দর্শকদের। ধীরে ধীরে শুরু হয় গণ্ডগোল। ফলে চিড়িয়খানার বাইরে উত্তেজনা বাড়ে। প্রায় রোজই একাধিক দর্শকদের সঙ্গে গণ্ডগোলে জড়ান চিড়িয়াখানার কর্মীরা। ফলে তাঁদের তরফেও কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়, যাতে এই বিষয়ে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
চিড়িয়াখানায় এমনই সময়ে শনি-রবিবার ছুটির দিনেই সবথেকে বেশি ভিড় হয়। বিশেষ করে রবিবার মাত্রাছাড়া দর্শক আসেন চিড়িয়াখানায়। গত রবিবার সাম্প্রতিক সময়ে দর্শকের সংখ্যা ছিল সবথেকে বেশি। সেদিন প্রায় ২৭০০ দর্শক চিড়িয়াখানায় আসেন বলে জানা গিয়েছে। আর সেই দিনই এক মহিলার সঙ্গে ঝামেলা হয় চিড়িয়াখানার কর্মীদের। অনেক ঝামেলার পরে অবশেষে বাচ্চা নিয়ে ওই মহিলাকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। এই ঝামেলার ফলে গেটের বাইরে ভিড় জমে যায়।
তারপরেই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবার থেকে ১০ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদেরও ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। চিড়িয়াখানার ভিতরে যাতে সবাই নির্দিষ্ট দূরত্ব, মাস্ক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবধি মেনে চলেন সেদিকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মীদের। ঢোকার আগে প্রত্যেকের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। সবাইকে স্যানিটাইজারে হাত ধুতে হচ্ছে। কাউকে বেশিক্ষণ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। যাতে কোথাও ভিড় না হয়, সেদিকে নজর রাখছেন তাঁরা। এনক্লোজারের কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে বাচ্চাদের ঢুকতে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দর্শকরা।