দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে আইপিএল শুরু হয়েছে এক সপ্তাহও হয়নি। তার মধ্যেই কলকাতায় বড় বেটিং চক্রের পর্দাফাঁস হল। বৃহস্পতিবার রাতভর তল্লাশি চালিয়ে শহরের একাধিক জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৯ জনকে। উদ্ধার করে হয়েছে অনেক মোবাইল-ল্যাপটপ ও নগদ টাকা। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করছেন লালবাজারের তদন্তকারী অফিসাররা।
সূত্রের খবর, লালবাজারের গোয়েন্দারা খবর পান কলকাতার কিছু জায়গায় গোপনে আইপিএল নিয়ে বেটিং চক্র শুরু হয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালান গোয়েন্দারা। সেইমতো পার্ক স্ট্রিট এলাকার একটি বাড়িতে হানা দিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে জেরা করে উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ কলকাতার আরও কয়েকটি ডেরার সন্ধান পান গোয়েন্দারা।
জানা গিয়েছে, গতকাল রাতেই উত্তর কলকাতার বড়তলা, মধ্য কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট ও দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুরে হানা দেন গোয়েন্দারা। বড়তলা ও হেয়ার স্ট্রিট এলাকায় বাড়িতে ও যাদবপুরে একটি অভিজাত আবাসনের ১৩ তলায় হানা দেন গোয়েন্দারা। সেখানেও বেটিং চক্রের হদিশ মেলে। এছাড়া বেটিং চক্রের খোঁজে সল্টলেকের কিছু জায়গাতেও হানা দিয়েছে পুলিশ।
লালবাজার সূত্রে খবর, এই জায়গাগুলিতে হানা দিয়ে মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বেশিরভাগের বয়সই ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের কাছ থেকে মোট ১৭টি মোবাইল ফোন, ১৪টি ল্যাপটপ, ৩টি টিভি, একটি গাড়ি ও নগদ দেড় লক্ষ টাকা উদ্ধার করে হয়েছে।
জানা গিয়েছে, জেরায় প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে মুম্বই-সহ দেশের বড় শহরের কিছু বেটিং চক্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল এই চক্রগুলির। তবে তাদের সঙ্গে আমিরশাহীর কোনও যোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইপিসি ১২০ বি অর্থাৎ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ৪২০ অর্থাৎ প্রতারণা ছাড়াও জুয়া আইনের আওতায় তিন থেকে চারটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
শুক্রবার অভিযুক্তদের আদালতে তোলা হবে। তাদের নিজেদের হেফাজতে রাখার দাবি জানাবে লালবাজার, এমনটাই জানা গিয়েছে। কারণ তাদের জেরা করে কলকাতা ও রাজ্যের আর কোথায় কোথায় বেটিং চক্র চলছে তার হদিশ পেতে চাইছে পুলিশ। কারণ পুলিশের ধারণা, যাদের ধরা হয়েছে তার চুনোপুঁটি। এর শিকড় অনেক গভীরে। তাই আগামী দিনে আরও তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা চালাচ্ছে তারা। তার জন্য ইতিমধ্যেই খবর সংগ্রহ শুরু করেছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা।