দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের করোনা ওয়ার্ডে রোগীকে খাবার দেওয়ার নাম করে পিপিই কিট পরে সোনার গয়না লুঠ করে তিনজন। ১২ ঘণ্টার মধ্যে কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের তৎপরতায় গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজনকে। উদ্ধার করা হয়েছে লুঠ হওয়া গলার হার, কানের দুল, আংটি প্রভৃতি চুরি যাওয়া গয়না।
হাসপাতাল সূত্রের খবর, মেডিক্যাল কলেজের সুপার স্পেশ্যালিটি বিল্ডিংয়ের আটতলায় যে ফিমেল করোনা ওয়ার্ড, সেখানেই পিপিই পরে প্রবেশ করে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি। সেখানে ৭৭২ নম্বর বেডে ভর্তি রয়েছেন বসিরহাটের ৪৮ বছরের বাসিন্দা রুণা সেন। ওই রোগিণীকে খাবার দিয়ে তারা বলে, “বাড়ি থেকে খাবার পাঠিয়েছে। এবার হার, আংটি, চুড়ি, দুল– এসব গয়নাগুলো খুলে দিন, আপনার বাড়ির লোক চেয়েছে।” রোগিণী ইতস্তত বোধ করেন, সোনার গয়না এভাবে খুলে দিতে।
এই কথোপকথন চলার সময়েই সন্দেহ হয় ওয়ার্ডে উপস্থিত নার্সের। তিনি জানতে চান ওই ব্যক্তিদের পরিচয়। তারা জানায়, রোগীর পরিবার তাদের পাঠিয়েছে। কিন্তু ওই নার্সের সন্দেহ হয়, ফিমেল ওয়ার্ডে তো কোনও পুরুষকে ঢুকতে দেওয়ার কথা নয়! এই প্রশ্ন করতেই পালানোর চেষ্টা করে তারা। ওই নার্স পেছন পেছন তাড়াও করে যান, কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি, পালিয়ে যায় পিপিই পরা চোরেরা।
এর পরে সব জানাজানি হলে বউবাজার থানায় ডায়েরি করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে তিন জনকে আটক করে পুলিশ। জানা গেছে, তারা হাসপাতালেরই চুক্তিভিত্তিক চতুর্থ শ্রেণির স্টাফ। তাদের জেরা করা করে উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া সোনার গয়না। তারপরেই তাদের গ্রেফতার করা হয়।
শুক্রবার গ্রেফতার হওয়া তিনজনকেই শিয়ালদহ আদালতে তোলা হলে তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় হাসপাতালের আরও কেউ যুক্ত আছে কিনা সে বিষয়েই জেরা করছে পুলিশ। এই বিষয়ে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান নির্মল মাজি বলেন, “আমরা কোনওরকম দালালচক্র এখানে চলতে দেবো না। পুলিশ নজর রাখছে। আমি নিজে বেশ কয়েকবার গোটা মেডিকেল কলেজ ঘুরে বেরিয়ে দেখছি। সকলেই সতর্ক আছেন।”
এর আগে মেডিক্যাল কলেজের করোনা ওয়ার্ড থেকে মোবাইল চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। গত কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, করোনা রোগীদের ভর্তির নামে টাকা চাওয়া হচ্ছে, ওষুধ কেনার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে এমনকি খাবারও চুরি হয়ে যাচ্ছে করোনা রোগীদের। পুলিশের ধারণা, করোনা নিয়ে আতঙ্কের সুযোগে এবং পিপিই পরে থাকার সুবিধা কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির চক্র এই কাজ করছে। তাই অতিরিক্ত সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা হয়েছে মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে।