দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা, ত্রিপুরা থেকে সরকার গিয়েছে। হাতে শুধু কেরল। শবরীমালা নিয়ে 'সাহসী' সিদ্ধান্ত, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের অফিসারদের সোনা কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে যাওয়া, সব মিলিয়ে চাপেই ছিল সিপিএম নেতৃত্ব। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের ভোটে যে বিপুল জয় হয়েছে বামেদের তাতে একুশে ফের কেরল জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন বাম নেতারা।
সার্বিক ফলাফল কী?
মোট ৯৪১টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোট হয়েছিল। বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট জিতেছে ৫১৪টিতে। ছটি করপোরেশনের মধ্যে বামেদের দখলে চারটি। ১৫২ টি ব্লক পঞ্চায়েতের মধ্যে লাল ঝাণ্ডা উড়েছে ১১২টিতে। ১৪টি জেলা পঞ্চায়েতের মধ্যে ১০টি বামেরা জিতেছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস। তারাই সেখানে বিরোধী দল। ৩৭৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জয় পেয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। বিজেপি জিতেছে ২৩টিতে। তবে বহু আসনে রাত পর্যন্ত গণনা চলছে। সকালের দিকে গণনা শুরুর পর দেখা যাচ্ছিল তিরুঅনন্তপুরম ও ত্রিশূর কর্পোরেশনে বড় সাফল্য পাবে গেরুয়া শিবির। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেসব হাওয়াই মিলিয়ে গেছে।
জয়ের জন্য কেরলবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য পিনারাই বিজয়ন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, কোভিড মোকাবিলায় সফল হওয়া, দেশ দুনিয়ায় মডেল হিসেবে উঠে আসা যেমন শাসকদল সিপিএমের কাছে অ্যাডভান্টেজ তেমনই মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের দফতরের আধিকারিকদের সোনা পাচার কাণ্ডে জড়িয়ে পড়া বাম শিবিরে বিড়ম্বনা তৈরি করেছিল। কারণ বিরোধীরা সেটাকেই হাতিয়ার করেছে প্রচারে। তা ছাড়া কেরলের সিপিএম রাজ্য সম্পাদক কোডিয়ারি বালাকৃষ্ণনের ছেলের দুর্নীতি জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। গত মাসে তিনি রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতিও নিয়েছেন। তবে সেসব হার্ডল পেরিয়েই স্থানীয় প্রশাসনে ২০১৫-র থেকেও বড় জয় এল বামেদের।
অনেকের মতে শহর ও গ্রামীণ এলাকায় যেহেতু একসঙ্গে ভোট হচ্ছে তাই সার্বিক ভাবেই জনতার মনোভাবের একটা সার্বিক প্রতিফলন ধরা পড়েছে। দেখা যাচ্ছে গ্রামীণ কেরলে যেমন বামেদের গণভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে তেমন শহর এলাকায় আগের চেয়ে ভাল ফল করেছে তারা।