দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি যদি বাড়িতে থাকতেন তাহলে হয়তো উদ্ধারে নামতেন। তিনি যেটা পারেন সেটাতেই ভর করে হয়তো কোনও বাড়ির চিলেকোঠায় আটকে থাকা বৃদ্ধকে নিজের কাঁধে করে নিয়ে যেতেন ত্রাণ শিবিরে। কিন্ত তাঁর কাঁধে এখন গোটা দেশের দায়িত্ব। তাই বেড়ে ওঠার মহল্লা বিপর্যস্ত হলেও মন শক্ত করে লড়তে হচ্ছে তাঁকে।
সজন প্রকাশ। ২৪বছর বয়সী এই সাঁতারু এশিয়ান গেমসের ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছেন। কিন্তু মন বসাতে পারছেন না তরুণ এই সাঁতারু।
কেরলের ইদুক্কি জেলার বাসিন্দা সজন প্রকাশ। আর ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত কেরলের এই জেলাই। গত তিন দিন ধরে সজনের পাঁচ আত্মীয় নিখোঁজ। তবু লড়ছেন তিনি। মন শক্ত করে প্রজাপতির মতো ডানা ঝাপটাচ্ছেন।
এশিয়াডে শেষবার বাটারফ্লাই সাঁতারে পদক এসেছিল ১৯৮৬ সালে সিওলে। রুপো জিতেছিলেন খাজান সিং। ১মিনিট ৫৭.৭৫ সেকেন্ডে ইভেন্ট শেষ করে ফাইনালে পৌঁছেছেন সজন।
একটি সর্বভারতীয় সাংবাদ মাধ্যমকে এই তরুণ সাঁতারুর মা জানিয়েছেন "ও যোগাযোগ করছে রোজ। আমি বুঝতে পারছি ও নিজের খেলায় মন দিতে পারছে না।" গেমস ভিলেজে সতীর্থদের ইদুক্কি থেকে উঠে আসা এই সাঁতারু জানিয়েছেন, তাঁদের পৈতৃক ভিটে ভেসে গিয়েছে বন্যায়। খোঁজ নেই পাঁচ আত্মীয়ের। জাকার্তার জিকেবি অ্যাকোয়াটিক সেন্টারে সোমবার ২০০মিটার ফাইনালে নামবেন সজন প্রকাশ। বুধবার নামবেন ১০০মিটার ইভেন্টে। তাঁর কোচ অর্জুন পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাঁতারু নিশা মিল্লেতও মনোবল বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সজন জলে নামার পর তাঁকেই ডাঙায় দাঁড়িয়ে বলতে হবে- ফাইট সজন ফাইট!