দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাবুলের গুরুদ্বার হর রাই সাহিবে হামলা চালিয়েছে আইএস জঙ্গিরা। তিনজন আত্মঘাতী জঙ্গি গত ২৫ মার্চ হামলা চালায় এই গুরুদ্বারে। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৫ জনের। ৮০ জনকে পণবন্দি বানিয়েছিল জঙ্গিরা। তবে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। মুক্তি পান পণবন্দিরা। অন্যান্য দিনের মতোই এদিন সকালেও গুরুদ্বারে প্রার্থনা করতে এসেছিলেন সাধারণ শিখরা। আচমকাই জঙ্গি হামলা হয় সেখানে। পরে দায় স্বীকার করা ইসলামিক স্টেট তথা জঙ্গি সংগঠন আইএস।
এবার তিন জঙ্গির মধ্যে একজনের নাম-পরিচয় সামনে এনেছে জঙ্গি সংগঠন। তাদের মুখপত্রে প্রকাশ করা হয়েছে এক জঙ্গির ছবি। আর তার সম্পর্কিত তথ্য সামনে আসার পরেই চোখে কপালে উঠেছে এনআইএ-র তদন্তকারী অফিসারদের। কারণ বুধবারের এই হামলায় যুক্ত থাকা আবু খালিদ অল-হিন্দি আদতে কেরলের বাসিন্দা। আবদুল খায়ুম নামেও পরিচিত আইএস-এর এই জিহাদি। কেরলের কান্নুর জেলার চেক্কিকুলাম এলাকার বাসিন্দা এই জঙ্গির উপর ২০১৭ সাল থেকে নজর ছিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি তথা এনআইএর-র। এর আগেও একাধিক জঙ্গি কার্যকলাপে নাম জড়িয়েছিল এই আবু খালিদের।
আইএস-এর মুখপত্রে ইতিমধ্যেই এই আবু খালিদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে জঙ্গির হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক রাইফেল। সামনেও সাজানো রয়েছে একগাদা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র। শুধু ছবি প্রকাশই নয়, আইএস-এর তরফে জঙ্গির নাম-পরিচয় দিয়ে এটাও জানানো হয়েছে যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিমদের প্রতি হওয়া নির্যাতনের বদলা নিতেই কাবুলের ওই গুরুদ্বারে হামলা চালিয়েছে সে। তবে এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর কেরল পুলিশের একাংশ দাবি করেছে এই যুবকের নাম মহম্মদ মহসিন। বয়স ২১ বছরের আশেপাশে। গত বছর আফগানিস্থানে হওয়া ড্রোন হামলায় এই মুহসিনের মৃত্যু হয়েছে বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী গত বছর ১৮ জুন মারা গিয়েছিল পেশায় ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ মহসিন। কেরল পুলিশের একটি সূত্রের দাবি কাসারগোদ জেলার থ্রিক্কাপুরির বাসিন্দা ছিল এই মহসিন।
কর্মসূত্রে দুবাই গিয়েছিল মহসিন। শাজির মঙ্গলাসেরি নামে এক ব্যক্তির কোম্পানিতে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি শুরু করে সে। এরপর এই মঙ্গলাসেরির সঙ্গেই পৌঁছয় আফগানিস্থানে। যোগ দেয় আইএস-এর ক্যাম্পে। গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ জানিয়েছে, যদি এই আবু খালিদ, মহম্মদ মহসিন, এবং আবদুল খায়ুম একই ব্যক্তি হয় তাহলে এই হবে আইএস-এর দ্বিতীয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত আত্মঘাতী জঙ্গি।
এর আগে আবু ইউসুফ অল-হিন্দি ওরফে শফি আরমার নামে আইএস-এর এক সক্রিয় সদস্য ছিল। মনে করা হয় সিরিয়ার রাক্কাতে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় মৃত্যু হয়েছে তার। এই শফি আরমার ছিল উত্তর কন্নড় জেলার ভাটকলের বাসিন্দা। প্রাথমিক ভাবে ইন্ডিয়ান মুজাহিনের সদস্য থাকলেও পরে ইসলামিক স্টেটে যোগ দেয় সে। এতদিন পর্যন্ত এই শফি আরমারই ছিল আইএস-এর একমাত্র ভারতীয় বংশোদ্ভূত আত্মঘাতী জঙ্গি। তবে নতুন তথ্য সামনে আসায় এই তালিকায় আবু খালিদের নাম জুড়তে চলেছে বলেই মনে করছেন কাবুল হামলার তদন্তকারী আধিকারিকরা। ২০১৬-১৭ সালে সিরিয়াতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ৯ জন কেরলের বাসিন্দাকে। এদের মধ্যে সফলভাবে সিরিয়ায় আইএস-এর ক্যাম্পে যোগ দেয় আবু খালিদ।