দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আইইডি বিস্ফোরণে আহত সিআরপিএফের এক জওয়ান। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার গাঙ্গু এলাকায় শ্রীনগর-পুলওয়ামা রোডের উপর এই বিস্ফোরণ হয়েছে। সূত্রের খবর, আহত জওয়ানের নাম প্রদীপ দাস। সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, শ্রীনগর-পুলওয়ামা রোডের উপর রাস্তা খোলার জন্য দায়িত্বে ছিলেন সিআরপিএফ জওয়ানরা। রাস্তা খোলার মুহূর্তেই ঘটে বিস্ফোরণ।
কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। শুরু হয়েছে সেনার টহলদারি। কড়া নজরদারিতে চলছে তল্লাশি অভিযানে। কে বা কারা এই বিস্ফোরণে যুক্ত তা খতিয়ে দেখছে সেনাবাহিনী। যদিও এখনও কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ধরা পড়েনি কোনও জঙ্গিও। গত চারদিনে এই নিয়ে দু'বার হামলা হয়েছে সিআরপিএফ বাহিনীর উপর। গত বুধবার সোপোরে সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষের মাঝে পড়ে শহিদ হয়েছেন এক সিআরপিএফ জওয়ান। নিহত হয়েছেন এক সাধারণ নাগরিকও।
জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিং আগেই জানিয়েছিলেন যে উপত্যকায় জঙ্গি ঢোকানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। আর তাদের মূল নিশানায় রয়েছে ভারতের নিরাপত্তাবাহিনী। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের দিজিপি দিলবাগ সিং বলেন, গোয়েন্দা সূত্রে তাঁদের কাছে খবর এসেছে যে সীমান্ত এলাকা দিয়ে জঙ্গি ঢোকানোর চেষ্টা করছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিন, জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবা। আর এ কাজে তাদের সক্রিয় ভাবে সাহায্য করছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। মূলত নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলা চালাতে পারে জঙ্গিরা। দিলবাগ সিং আরও বলেন, মূলত নৌশেরা, রাজৌরি এবং পুঞ্চ সেক্টর দিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছে।
গত কয়েকদিনে সমস্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও আঁটোসাঁটো হয়েছে নিরাপত্তা। চলছে কড়া নজদারি। টহল দেওয়ার পাশাপাশি এক এলাকার জওয়ানরা অন্য এলাকার দায়িত্বে থাকা জওয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। যাতে কোনও ভাবেই কোনও তথ্য কারও অজানা না থাকে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে যেন নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে কোনও জঙ্গি ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পারে।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামাতে জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় হাইওয়ের উপর সিআরপিএফের কনভয়ের উপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। প্রায় ৮০ কেজি আইইডি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে সরাসরি নিরাপত্তাবাহিনীর কনভয়ে ধাক্কা মারে ফিঁদায়ে জঙ্গি। নিমেষে কার্যত শ্মশান হয়ে যায় গোটা এলাকা। শহিদ হন ৪০ জন জওয়ান। আহত হন আরও অনেকে। পড়ে হামলার দায় স্বীকার করে জইশ-ই-মহম্মদ। প্রায় দেড় বছর আগের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি এখনও তাজা রয়েছে। তার মধ্যেই ফের একবার পুলওয়ামায় সিআরপিএফকে নিশানা বানিয়ে আইইডি বিস্ফোরণ হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে পুলওয়ামা। এর সঙ্গে কোনও বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সেনাবাহিনী।