বাগদাদির সঙ্গেই খতম তার ডানহাত, পরবর্তী আইএস চিফ হতে পারত সে! টুইট ট্রাম্পের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবু বকর আল-বাগদাদির পরে তাঁর জায়গায় আইএস চিফ হওয়ার কথা ছিল যার, সেই আবু আল-হাসান আল-মুহাজিরকেও মেরে ফেলা হয়েছে। ওই জঙ্গির মৃত্যুর কথা সোমবারই জানিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প টুইট করে ন
শেষ আপডেট: 29 October 2019 14:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবু বকর আল-বাগদাদির পরে তাঁর জায়গায় আইএস চিফ হওয়ার কথা ছিল যার, সেই আবু আল-হাসান আল-মুহাজিরকেও মেরে ফেলা হয়েছে। ওই জঙ্গির মৃত্যুর কথা সোমবারই জানিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প টুইট করে নিশ্চিত করলেন, বাগদাদির পরবর্তী উত্তরসূরি খতম হয়ে গেছে।
ট্রাম্প লেখেন, "আবু বকর আল-বাগদাদির ঠিক পরেই যে উত্তরসূরি ছিল, তাকে মেরে ফেলার খবর পেয়েছি।"
যদিও নিজের টুইটে ট্রাম্প সেই জঙ্গির নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু সোমবার বাগদাদি ছাড়া আর একজনের মৃত্যুই নিশ্চিত করেছিল মার্কিন বাহিনী। সেই আল-মুহাজির ছিল আইএস মুখপাত্র। জেহাদি হিসেবে বিশেষ 'সুখ্যাতি' ছিল তার।
দেখুন ট্রাম্পের টুইট।
https://twitter.com/realDonaldTrump/status/1189172468159864832
শনিবার রাতেই ট্রাম্প টুইট করেছিলেন, “এইমাত্র বিশাল বড় একটা ঘটনা ঘটল।” ট্রাম্পের এই টুইটের পরেই শুরু হয় জল্পনা। কী এমন ঘটল যা খুলে বললেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অনেক রকম সম্ভাবনার কথা উড়ে আসে। তার মধ্যেই সিরিয়ায় হামলার কথাও শোনা যায়। অবশেষে সেটাই নিশ্চিত করেন ট্রাম্প নিজে। রবিবার ট্রাম্প বলেন, “গত রাতে বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসী নেতাকে জব্দ করেছে আমেরিকা। মার্কিন হামলার পরে একটি আত্মঘাতী জ্যাকেট পরে, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাগদাদি নিজেকে উড়িয়ে দেন।” ওই বিস্ফোরণে বাগদাদির তিন জন শিশুসন্তান মারা গেছে বলেও জানান ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, সিরিয়ায় আইসিস জঙ্গি দমনে ছাড়পত্র দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। তার পরেই সেনা সেখানে গোপন অভিযান করে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল আইসিস নেতা আল-বাগদাদি। ট্রাম্প জানান, সিআইএ-র সহায়তায় বাগদাদি ঠিক কোথায় আছে, তা ঠিক করার পরে নির্দিষ্ট টার্গেটে অভিযানের রূপরেখা ঠিক করা হয়। এর পরে, শনিবার রাতে একটি বিপজ্জনক এবং সাহসী অভিযান করে মার্কিন বাহিনী। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে রীতিমতো রাজকীয় ধাঁচে অবিশ্বাস্য এই অভিযান শেষ করেন অফিসাররা। তাতেই বাগদাদির পাশাপাশি মারা যায় আল-মুহাজির।
এর পরে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে মার্কিন সেনা। সেই নমুনার পরীক্ষার রিপোর্টে বাগদাদির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন। এদিনের ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, “বাগদাদি এক জন দুর্বল ও হতাশ ব্যক্তি ছিল। তাকে বিদায় করা হয়েছে।”
২০১১ সালে বাগদাদিকে ধরার জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল মার্কিন প্রশাসনের তরফে৷ যদিও ২০১৭ সালের মে মাসে রুশ বিমান হানায়, সিরিয়ার রাক্কা শহরে ইসলামিক স্টেট প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদির মৃত্যু হয় বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়েছিল। এর পরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রশাসন দাবি করে, ২০১৭ সালের ওই হামলায় আইএস নেতা বাগদাদি খুন হয়নি, আহত হয়েছে। এর পরেই ফের শুরু হয় অভিযানের পরিকল্পনা।
শেষমেশ বাগদাদি তো খতম বটেই, সেই সঙ্গে তার ডানহাতকেও মেরে ফেলা গেছে বলে নিশ্চিত করল আমেরিকা।