
শেষ আপডেট: 7 September 2021 14:39
হার্ড ইমিউনিটি কী?
হার্ড (Herd) মানে হল জনগোষ্ঠী এবং ইমিউনিটি (Immunity) মানে হল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সহজভাবে বলতে গেলে, যদি জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগের মধ্যে রোগ-জীবাণুকে প্রতিরোধ করার মতো শক্তি বা ইমিউন পাওয়ার তৈরি হয়, তাহলে বাকিরাও সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যায়, একেই বলে হার্ড ইমিউনিটি।
আরও সহজ করে বলতে গেলে, ধরা যাক, আপনি সংক্রামিত হননি বা আপনার শরীরে ভাইরাস ছড়ায়নি। কিন্তু আপনার আশপাশের কিছু মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছ। এবার টিকা নিয়ে হোক বা পরোক্ষে জীবাণু সংক্রমণের মাধ্যমে হোক, সেইসব মানুষ যদি সেরে ওঠেন এবং তাঁদের শরীরে ভাইরাসকে হারিয়ে দেওয়ার মতো প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে তাহলে সুরক্ষিত থাকবেন আপনিও। অর্থাৎ আপনি যাদের সঙ্গে মেলামেশা করছেন তাঁদের থেকে রোগ ছড়াবার সম্ভাবনা আর থাকবে না।
এই হার্ড ইমিউনিটিকে বলে ‘কমিউনিটি ইমিউনিটি’ (community immunity) বা ‘পপুলেশন ইমিউনিটি’ (population immunity) বা ‘সোশ্যাল ইমিউনিটি’ (social immunity)। গবেষকরা বলছেন, কোনও গোষ্ঠী বা ক্লাস্টারের মধ্যে যদি বেশিরভাগ মানুষই ইমিউনড হয়ে যান, তাহলে স্বভাবতই ভাইরাস আর এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। ভাইরাল ট্রান্সমিশন না হলে সংক্রমণের ছড়িয়ে পড়ার হারও কমবে। হিউম্যান ট্রান্সমিশনের (Human Transmission) শৃঙ্খলটা ভেঙে যাবে। একটা সময় দেখা যাবে, ভাইরাল স্ট্রেন আর জিনের গঠন বদলাতে পারছে না। কারণ বহু মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার রাস্তাটাই বন্ধ হয়ে গেছে। যে মুহূর্ত থেকে ভাইরাল স্ট্রেনে মিউটেশন বা জিনের গঠন বিন্যাস বদলানো বন্ধ হবে, সেই মুহূর্ত থেকেই ভাইরাল স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় হতে শুরু করবে। মহামারীর প্রকোপ কমবে। ১৯৭৭ সালে স্মলপক্স, ১৯৩০-এ হামের সময়ও ঠিক এভাবেই হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছিল। ২০০৩ সালে সার্স মহামারীর সময়েও ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছিল বহু মানুষের শরীরে।
এই হার্ড ইমিউনিটির একটা থ্রেশহোল্ড (herd immunity threshold) আছে। ঠিক কতজন মানুষের মধ্যে সংক্রমণ প্রতিরোধী শক্তি তৈরি হলে বাকিদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর হার কমবে সেটা নির্ভর করে দেশের আয়তন, জনসংখ্যার উপর। এই হার্ড ইমিউনিটি আসতে পারে টিকাকরণের মাধ্যমে বা পরোক্ষে জীবাণু সংক্রমণ ঘটিয়ে। ভারতের মতো দেশে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করতে গেলে ৭০ শতাংশের মধ্যে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটাতে হবে যা প্রায় অসম্ভব। কারণ এতে মৃত্যুহার বাড়বে। তাই টিকাকরণই একমাত্র উপায়।
টিকাকরণ কীভাবে হতে পারে? দেশের জনসংখ্যার একটা বড় অংশের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করতে হলে ৬০-৭০ শতাংশের টিকাকরণ শেষ করতে হবে। তবে ভ্যাকসিন যদি ৮০ শতাংশ কার্যকরী হয়, তাহলে আরও বেশি ৭৫-৯০ শতাংশের টিকাকরণ শেষ করতে হবে। গবেষকরা বলছেন, ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি (Immunodeficiency) রয়েছে যাদের, অর্থাৎ ওষুধের মাধ্যমে ইমিউনিটি গড়ে তোলা সম্ভব নয়, সে সমস্ত মানুষদের সুরক্ষিত রাখবে হার্ড ইমিউনিটি।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'