ধ্বংসের পথে স্প্যানিশ স্টোনহেঞ্জ, এবছরও কি ফের জেগে উঠবে জলের মধ্য থেকে!
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত হাজার বছরের পাথরের স্থাপত্যটি জলের নীচে ঢাকা পড়েছিল সেই ১৯৬৩ সাল থেকে। গত ষাট বছরে লোকে তাকে ভুলতেই বসেছিল। গতবছর খরার জন্য পশ্চিম স্পেনে জেগে ওঠে ‘স্প্যানিশ স্টোনহেঞ্জ’ যার আসল নাম দোলমেন অব গুয়াদালপেরাল।
জেগে ওঠার প
শেষ আপডেট: 22 March 2020 02:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত হাজার বছরের পাথরের স্থাপত্যটি জলের নীচে ঢাকা পড়েছিল সেই ১৯৬৩ সাল থেকে। গত ষাট বছরে লোকে তাকে ভুলতেই বসেছিল। গতবছর খরার জন্য পশ্চিম স্পেনে জেগে ওঠে ‘স্প্যানিশ স্টোনহেঞ্জ’ যার আসল নাম দোলমেন অব গুয়াদালপেরাল।
জেগে ওঠার পরে গ্রানাইট পাথরে তৈরি এই স্থাপত্য দেখতে ভিড় জমে গিয়েছিল পর্যটকদের। এই স্থাপত্য ছুঁয়ে দেখতেও কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি। দেশের মানুষ অর্ধশতকের বেশি সময় পরে এই স্থাপত্যটি দেখে যত না খুশি হয়েছিলেন তার চেয়ে বেশি দুঃখই বোধহয় পেয়েছিলেন। অর্ধশতাব্দী জলের নীচে থেকে ধ্বংসের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে এই বিস্ময়কর পুরাকীর্তিটি।
১৯৬৩ সালে স্পেনের সরকার ভ্যালদেকানাস রিজার্ভার নামে একটি জলাধার বানায়। মূলত জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যই এটি বানানো হয়েছিল। এই জলাধার থেকে এখনও জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়ে চলেছে। এটি বানানোর ফলেই ডুবে যায় দোলমেন অব গুয়াদালপেরাল। জলস্তর কখনও কমে গেলে উঁচু পাথরের অংশ বেরিয়ে পড়ত ঠিকই তবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে যে গত ষাট বছরে এই প্রথমবার পুরোটা দেখা গেল।
https://media4.s-nbcnews.com/j/newscms/2019_39/3028791/spaindolmen_69352eb6ecb24c177b9fced42a925444.fit-560w.gif
ইংল্যান্ডের বিশ্ববিখ্যাত স্টোনহেঞ্জের মতোই এটি দেখতে। ১০০টি অতি বিশাল পাথর চক্রাকারে সাজানো রয়েছে। তবে জলের তলায় থাকায় এটিকে আর দেখা যায় না।
১৯২০ সালে জার্মান পুরাতত্ত্ববিদ উগো ওবেরমেয়ার এখানে উৎখনন করেন যদিও ১৯৬০ সালে এই পুরাকীর্তির কথা প্রথম বার জার্নালে প্রকাশিত হয়। পুরাতত্ত্ববিদদের ধারনা এটি কোনও একটি গোরস্থানের উপরিভাগ হতে পারে অথবা এই জায়গায় কোনও ধর্মীয় রীতি পালন হত প্রাচীন কালে। অনেকে মনে করেন এটি ছিল সুরম্য গোরস্থান যা রোমানরা ধ্বংস করে দিয়েছিল কারণ এটির ভৌগোলিক অবস্থান সেই সময়ের প্রেক্ষিতে ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
গত বছর ইউরোপে গরম শুরুর মুখে দু’বার তাপপ্রবাহ দেখা গিয়েছিল। জুন মাস নাগাদ এখানে জলস্তর কমতে শুরু করে। জুলাই ও অগস্ট মাসে স্পেনের আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত শুকনো। তাপমাত্রা বেড়ে হয়েছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুলাই মাসে নাসার উপগ্রহচিত্রে দেখা যায় যে এই জায়গায় জলস্তর ক্রমেই নেমে চলেছে। তারপরে এটি পুরোপুরি জেগে ওঠে। তখনই নড়েচড়ে বসেন স্পেনের মানুষ। এই স্থাপত্যকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে শুরু করেন অনলাইন সই সংগ্রহ। ৪৪ হাজার সই সম্বলিত স্মারকলিপি দেখে পদক্ষেপ করতে শুরু করে স্পেনের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রক, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রক ও এক্সত্রামাদুরা বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁরা চেষ্টা করতে শুরু করেন যাতে এটিকে “অ্যাসেট অফ কালচারাল ইন্টারেস্ট” বলে ঘোষণা করা হয়। স্পেনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যকে এই তকমা দেওয়া হয়। তাঁদের সেই চেষ্টা সফল হওয়ার আগেই বর্ষা চলে আসে। আবার সেটি ডুবে যায়।
[caption id="attachment_198094" align="aligncenter" width="600"]

গতবছর এমনই দেখতে লাগছিল স্থাপত্যটিকে[/caption]
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সারা বিশ্বে হইচই চলছে। পৃথিবী ক্রমেই গরম হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কোনও ভাল দিক আছে বলে জানা নেই বিজ্ঞানীদের। তবে পুরাতত্ত্ববিদরা বলছেন যদি একটিও ভাল দিক থেকে থাকে তবে সেটি হল দোলমেন অব গুয়াদালপেরালের মতো একটি পুরাতাত্ত্বিক স্থানের জেগে ওঠা।
স্টোনহেঞ্জকে ইংল্যান্ডের সাংস্কৃতির অভিজ্ঞান বললে বাড়িয়ে বলা হয় না। প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া এই স্থাপত্য তৈরি শুরু হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব তিনহাজার বছর আগে। তবে সেটিও দোলমেন অব গুয়াদালপেরালের চেয়ে বয়সে নবীন। যদিও ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের স্টোনহেঞ্জে নতুন করে তিনটি স্তম্ভ আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলির বয়স অন্তত দশ হাজার বছর বলে মনে করছেন পুরাবিদরা।
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে দাবা খেলার তুলনা করেছেন আবহাওয়াবিদরা। তাঁরা বলছেন যে একজন অভিজ্ঞ দাবাড়ু কোনও একজন নবীন দাবাড়ুর বোড়েগুলোকে খেয়ে নিয়ে বড় বড় ঘুঁটিগুলোকে খাচ্ছে। কী ভাবে নিজের রাজা বাঁচাবেন তা ভেবেই উঠতে পারছেন না নবীন দাবাড়ুটি। এখানে প্রকৃতি হল পোড় খাওয়া দাবাড়ু এবং যাঁরা নীতি নির্ধারণ করছেন তাঁরা হলেন নবীন। কিছু ভেবে ওঠার আগেই পরাজয়ের দিকে এগিয়ে চলেছেন নবীন দাবাড়ুটি।
এবছর কি ফের জেগে উঠবে স্প্যানিশ স্টোনহেঞ্জ? তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হল সত্যিই যদি জেগে ওঠে তাহলে সেটি বিশ্বের পক্ষে ভালো নাকি মন্দ।