
শেষ আপডেট: 15 February 2021 13:14
আসলে সত্যিই কি সোনার নদী? কারণটা অন্য। পেরুর আমাজন বনাঞ্চলের যে অংশ দিয়ে সোনার স্রোত বইছে তা মাদ্রে দ্য দিয়সে প্রদেশে। পাহাড়ি এলাকা। নদীর দুধারে প্রচুর সোনার খনি আছে। বস্তুত, লাতিন আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি সোনার খনি আছে পেরুর দক্ষিণ-পূর্বের মাদ্রে দ্য দিয়স প্রদেশে। এখান থেকেই বিশ্বের বাজারে বিপুল সোনা রফতানি করে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সোনার খনিগুলি থেকেই কাঁচা সোনা নদী খাতে জমা হয়েছে। স্রোতের সঙ্গে বয়ে যাচ্ছে। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাস্টিন উইলকিনসন বলছেন, এই সোনা তোলার জন্য অবৈধভাবে নদী খাতে খনন চালানো হচ্ছে। প্রায় ৩০ হাজার খনি শ্রমিক নদীর স্রোত থেকে সোনা তুলতে হাজির হয়েছেন। বিস্তর খোঁড়াখুঁড়ির ফলে নদী খাতে ভাঙন ধরার উপক্রম হচ্ছে। তার ওপর জল থেকে সোনার কণা আলাদা করতে টন টন পারদ মেশাচ্ছেন শ্রমিকরা। ফলে বিষিয়ে যাচ্ছে নদীর জল।
পরিবেশবিদরা বলছেন, এর আগেও পেরুর বনে সোনা খুঁজতে গিয়ে বিশাল বনাঞ্চলের ক্ষতি হয়েছিল। প্রায় ২২ হাজার একর বনভূমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এবারেও সেই উন্মত্ত সোনা শিকারিরা নদীর অববাহিকায় হাজির হয়ে পরিবেশ নষ্ট করার উপক্রম করছে। নদীর জলের বিষক্রিয়ায় অশনি সঙ্কেত দেখছে আশপাশের গ্রামগুলির বাসিন্দারা।
পেরুর প্রশাসন বলছে, সোনা খুঁজতে গিয়ে পেরুর অরণ্যের ৩০ শতাংশই নষ্ট হতে বসেছে। এর প্রভাব পড়বে অরণ্যের বাস্তুতন্ত্রের ওপরে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে।