দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক দরবারেও। আজাদ কাশ্মীরের দাবিতে ফের উত্তাল লন্ডন। নিশানায় সেই ভারতীয় দূতাবাস। দিন কুড়ির মধ্যেই দু'বার বিক্ষোভ হল লন্ডনের ভারতীয় দূতাবাসের সামনে। এ বার বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ডিম-টমেটো-বোতলের আঘাতে ভাঙল দূতাবাসের কাচ।
মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর প্রায় ১০ হাজার ব্রিটিশ-পাকিস্তানি এবং খালিস্তানি সম্প্রদায়ের মানুষ আচমকাই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সকলের হাতেই ছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পতাকা। সঙ্গে ছিল কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে লেখা বেশ কিছু প্ল্যাকার্ডও। 'কাশ্মীর ফ্রিডম মার্চ' নামের মিছিলে সামিল হয়েছিলেন একাধিক মানুষ। লন্ডনের রাস্তায় নেমেছিল মানুষের ঢল। 'কাশ্মীরে গোলাগুলি বন্ধ হোক', 'বন্ধ হোক মিলিটারি শাসন', 'কাশ্মীর ইস্যুতে রাষ্ট্রপুঞ্জের হস্তক্ষেপ করার সময় এসেছে', "আমরা আজাদ কাশ্মীর চাই'-----এ ধরনের নানান স্লোগান শোনা গিয়েছিল বিক্ষোভকারীদের মুখে।
https://twitter.com/HCI_London/status/1168921116762693635
উপত্যকায় ৩৭০ ধারা বিলোপের পর এই নিয়ে বিক্ষোভের চরমতম রূপ দেখল লন্ডন। তাও আবার তিন সপ্তাহের মধ্যেই দু'বার। এ দিনের বিক্ষোভ মিছিল শুরুর আগে ওয়েস্টমিনস্টারে পার্লামেন্ট স্কোয়ারের সামনে থাকা গান্ধী মূর্তির হাতে একটি পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের পতাকে গুঁজে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এরপরেই কাতারে কাতারে লোক এগোতে থাকে লন্ডনের ভারতীয় দূতাবাসের দিকে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙেই দূতাবাসের সামনে জড়ো হয় সকলে। পচা ডিম, টমেটো, কাঁচের বোতল, জুতো, স্মোক বম্ব ও অন্যান্য আরও অনেক কিছুই দূতাবাসের দিকে তাক করে ছুড়তে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। ভেঙে গয়েছে দূতাবাসের বেশ অনেকগুলো কাঁচ। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান গোটা ঘটনার কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন। টুইট করে দূতাবাসের ভাঙা কাচের ছবি প্রকাশ্যে এনেছে ইন্ডিয়ান হাই কমিশনও। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই ঘটনার আগে গত ১৫ অগস্ট ঠিক একই ভাবে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন ব্রিটিশ পাকিস্তানি এবং খালিস্তানিরা। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেদিন ভারতের স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য লন্ডনের ভারতীয় দূতাবাসে জড়ো হয়েছিলেন অসংখ্য প্রবাসী ভারতীয়। তাঁদের উপরেই আচমকা চড়াও হয় বিক্ষোভকারীরা। দাবি সেই একই, 'আজাদ কাশ্মীর চাই। পাস্ক অধিকৃত কাশ্মীরের পতাকা হাতে নিয়ে দূতাবাস চত্বরে হানা দেয় শতাধিক হুলিগান। আচমকাই ডিম-টমেটো-কাচের বোতল-জুতো-প্লাস্টিকের বোতল ছুড়তে শুরু করে তারা। মহিলা ও শিশু সহ আটকে পড়েন অনেকেই। নিমেষে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল লন্ডন পুলিশকেও।