
শেষ আপডেট: 24 August 2021 08:35
“এইভাবে সবকিছু শেষ হয়ে যেতে পারে না। ২০ বছর ধরে মার্কিন সেনারা আফগানিস্তানকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন। ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন, গুলি খেয়েছেন। আফগান সরকারের সঙ্গে তালিবানের সমঝোতা মেনে নেওয়া যায় না। আফগানিবাসীকে ফের সেই তিমিরে ফিরতে দেওয়াও যায় না,” আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও আফগান মহিলাদের দুর্দশা নিয়ে কলম ধরেছেন অ্যাঞ্জেলিনা।
২০০১ সালে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর কাছে যুদ্ধে হেরে তালিবান নেতৃত্ব ক্ষমতা হারিয়েছিলেন। পরবর্তী ২০ বছরে তাঁরা সামাজিক ও কর্মক্ষেত্রে মেয়েদের অংশগ্রহণ মেনে নিতে পারেনি। অভিনেত্রী বলছেন, ব্যাঙ্কে কর্মরত মহিলা, বিচারপতি বা প্রশাসনের যে কোনও পদে থাকা মহিলাদের গত এক বছর ধরে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তালিবান বাহিনী। ওই মহিলাদের বন্ধু ও আত্মীয়-পরিজনদেরও খুন করেছে। বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের সঙ্গে তালিব যোদ্ধাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে জোর করে, তরুণীদের যৌনদাসী বানিয়ে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
বহু বছর ধরেই স্কুল পড়ুয়া মেয়ে, তরুণীরা তালিবানের অত্যাচারের শিকার হয়েছে। অ্যাঞ্জেলিনা লিখছেন, আফগানিস্তানের মহিলাদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ স্কুল পড়ুয়া বা কম বয়সী তরুণী তালিবানের লালসায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। গত ২০ বছরে আফগানিস্তানে তালিবান আধিপত্য কোণঠাসা হলে মেয়েরা তাদের স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছিলেন। এখন আবার সেই আতঙ্ক আর অত্যাচারের দিন ফিরে এসেছে। অথচ ছয়ের দশকে ছবিটা অন্য ছিল। তখন আফগান মেয়েদের পড়াশোনায় বাধা ছিল না। স্কুলে ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে পড়াশোনাতেও কোনও ফতোয়া জারি হয়নি। পশ্চিমী দুনিয়ার সংস্কৃতির আদানপ্রদানও হত। কিন্তু এখন সব বন্ধ। জীবন যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। অ্যাঞ্জেলিনা বলছেন, এমনটা হতে দেওয়া যায় না। মহিলাদের স্বকীয়তা দুমড়ে মুচড়ে শেষ হতে দেওয়া যায় না। এ আঁধার থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করতেই হবে।