দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার দেশের অসংখ্য বিশিষ্ট ব্যক্তি হিংসাত্মক আক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের আর্জি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠির মতামতকেই এ বার সমর্থন জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর।বিদ্বজ্জনদের মতামতকে সমর্থন করে তিনি বলেন, মহামারির আকার নিয়েছে গণপিটুনি। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন। তবেই হয়তো দ্রুত সমাধান হবে এই সমস্যা।
স্বরার কথায়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভয়ানক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে হিংসা। সন্দেহের বশে গণপ্রহারে মারা গিয়েছেন বহু নিরীহ মানুষ। তবে এই গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় এখনই রাশ না টানলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলেই মনে করছেন স্বরা। তাই গোটা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি মুম্বইয়ে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে স্বরা বলেছেন, "এটা এমনিই ব্যাপার যে এর থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা সম্ভব নয়। দিনদিন এই সমস্যা বেড়েই চলেছে। যখন-তখন, যেখানে-সেখানে গণপিটুনির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সেটাই কেবল সন্দেহের বশে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে এই নিন্দনীয় ঘটনা।" স্বরা আরও বলেন যে, এখনই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আগামি দিনে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। হিংসা থামাতে তাই স্বরার পরামর্শ বিভিন্ন জেলাস্তরে প্রশাসনকে আরও কড়া হতে হবে।
তবে কেবল মব লিঞ্চিং বা গণপিটুনি নয় 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছন স্বরা। তিনি বলেছেন, এই ধ্বনি সমাজকে হিংসা, জাতি-বিদ্বেষ, বৈষম্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মুসলিম, দলিত এবং নিম্নশ্রেণির মানুষদের যেভাবে হত্যা করা হচ্ছে, আগামি দিনে ভারতের পক্ষে তা একেবারেই মঙ্গলজনক নয়। প্রধানমন্ত্রীকে তাই অনুরোধ, যত দ্রুত সম্ভব এই গণপ্রহার এবং মৃত্যু ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
দেশের অভ্যন্তরে ক্রমাগত ঘটে চলা গণপ্রহারে মৃত্যু, আক্রমণের স্লোগান হিসেবে ‘জয় শ্রীরাম’–এর ব্যবহার সহ একাধিক ‘দুঃখজনক ঘটনা’তে উদ্বিগ্ন দেশের ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি খোলা চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন রামচন্দ্র গুহ, আদুর গোপালকৃষ্ণন, শ্যাম বেনেগল, আশিস চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, অমিত চৌধুরী, গৌতম ঘোষ, ড. পার্থ চ্যাটার্জি, অঞ্জন দত্ত, শুভা মুদগল দেশের অসংখ্য বিশিষ্ট ব্যক্তি। রয়েছেন মণিরত্নম, শ্যাম বেনেগাল, অনুরাগ কাশ্যপের মতো প্রথম সারির পরিচালকেরা।
বুধবার চিঠিতে নিজেদের ”শান্তিপ্রিয় ও গর্বিত ভারতবাসী” হিসেবে পরিচিতি দিয়ে তাঁরা লেখেন, ”প্রিয় প্রধানমন্ত্রী… মুসলিম, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের গণপ্রহারে মৃত্যুর ঘটনাবলী এই মুহূর্তে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এনসিআরবি (ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো)–র রিপোর্ট থেকে আমরা জানতে পেরেছি ২০১৬ সালে ৮৪০ জন দলিতের ওপর আক্রমণ নেমে এসেছে। এবং একই সঙ্গে হ্রাস পেয়েছে শাস্তির অনুপাত। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ধর্মকে কেন্দ্র করে ঘৃণাবশত আক্রমণের ২৫৪টি ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ৫৭৯।”