দ্য ওয়াল ব্যুরো: সীমান্ত সংঘাত যে এমন ডিজিটাল দুনিয়ায় আছড়ে পড়বে তা কে বুঝেছিল!
টিকটক-সহ ৫৯টি চিনা মোবাইল অ্যাপলিকেশন ভারতে নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই সিদ্ধান্ত চিনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিকল্প মডেলের সন্ধান যদি ভারত হাজির করতে পারে, তাহলে ডিজিটাল দুনিয়ায় চিনের আগ্রাসন দুমড়েমুচড়ে যাবে। যা বেজিংয়ের জন্য বড় আঘাত বলেই মত তাঁদের।
চিনা অ্যাপগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেখানে ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষিত থাকছে না । সম্প্রতি অ্যাপল তা হাতেনাতে ধরেও ফেলেছে। আইফোনের একটি বিশেষ ফিচার থেকে জানা যায়, ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে টিকটক। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত যদি এমন কোনও মোবাইল অ্যাপ আনতে পারে যা ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষিত রাখবে এবং তা যদি গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায় তাহলে এশিয়া-সহ দুনিয়ার অন্যত্রও চিনা আধিপত্য মুখ থুবড়ে পড়বে।
ইতিমধ্যেই শাওমি স্মার্ট ফোনের দুনিয়ায় এক নম্বর ব্র্যান্ড হিসেবে উঠে এসেছে। একাধিক রেটিং সংস্থা শাওমিকে পয়লা নম্বরে রেখেছে। ভারতে টিকটক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল দু’কোটি। তা ছাড়াও ডিজিটাল দুনিয়ার অন্যত্র চিনা সংস্থাকেগুলিকে আরও এগিয়ে দিতে সাহায্য করছে আলিবাবা। যা কোনও কোনও ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। সেখানে ভারতে যদি ৫৯ টি অ্যাপের ব্যবসায় লালবাতি জ্বলে যায় তাহলে চিনের অর্থনীতিতেও এর গভীর প্রভাব পড়বে বলে মত তাঁদের।
বিশ্বজুড়ে ৫জি ইন্টারনেট প্রযুক্তি ঢেলে সাজতে চিনা সংস্থা হুয়ায়েই বড় ভূমিকা নিচ্ছে। তা যাতে চিনা সংস্থার হাতে না থাকে সে ব্যাপারে বিভিন্ন দেশকে ইতিমধ্যেই এক জায়গায় করার উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অনেকের মতে, হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপ যদি সত্যি সত্যি বাস্তবায়িত হয় তাহলে ভূ-রাজনৈতিক পরস্থিতিতেও অনেক বদল হবে। ভারতের ভূমিকা সেখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন তাঁরা।
সিঙ্গাপুরের গবেষণা সংস্থা হিনরিক ফাউন্ডেশনের গবেষক অ্যালেক্স ক্যাপরি বলেছেন, “আগামী দিনে প্রযুক্তির জাতীয়তাবাদ ক্রমশ তীব্র হবে। অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, জাতীয় সুরক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ—ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সব দিক থেকে তা ঘটবে।” তিনি আর ও বলেছেন, “চিনা কমিউনিস্ট পার্টির চক্রব্যুহ থেকে সংস্থাগুলির বেরিয়ে আসা মুশকিল। এটা চলতে থাকলে একদিন নিজেরাই দেখবে তারা তালাবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে।”
লিংনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অফ এশিয়ান প্যাসিফিক স্টাডিজের ডিরেক্টর ঝাং বাহুই বলেছেন, “একদিকে সীমান্ত সংঘর্ষের পরিস্থিতি, সেখানে ভারতীয় সেনাদের মৃত্যু এবং অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আত্মনির্ভর হওয়ার ডাক—এই দুইয়ের ফলে ভারতের অভ্যন্তরে যে জাতীয়তাবাদী স্পর্শকাতরতা তৈরি হয়েছে তা বেজিংয়ের জন্য কড়া চ্যালেঞ্জের। কূটনৈতিক ক্ষেত্রের প্রভাব তো রয়েইছে, এই পরিস্থিতি চিনের ডিজিটাল বাণিজ্যে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। যা সুদূরপ্রসারী।”
ভারতে যত মোবাইল ফোন উৎপন্ন হয় তার ৭৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ আসে চিন থেকে। একটি সমীক্ষায় সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, ভারতে যদি ১০টি মোবাইল ফোন বিক্রি হয় তাহলে তার মধ্যে আটটি অপ্পো এবং শাওমির। চিন থেকে সারা বছর ইলেক্ট্রনিক্স এবং টেলি কমিউনিকেশনের যত যন্ত্রাংশ বিদেশে রফতানি হয় তার ১৪ শতাংশ কেনে ভারত। ইউরেশিয়া গ্রুপ তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, ভারতের এহেন সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দিতে পারে। যাতে আখেড়ে ক্ষতি চিনের।