ভারতের তৈরি ব্রাহ্মস কিনতে কোটি কোটি টাকার বরাত, প্রথম বিদেশি খরিদ্দার ফিলিপিন্স
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের তৈরি ব্রাহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিতে মুগ্ধ ফিলিপিন্স। শক্তিশালী এই সুপারসনিক মিসাইল কিনতে কোটি কোটি টাকার বরাত দিয়েছে ফিলিপিন্সের নৌবাহিনী।
ব্রাহ্মস মিসাইল কিনতে বহু আগেই আগ্রহ প্রকাশ করেছিল ফিলিপিন্স। গত বছর থেকেই
শেষ আপডেট: 28 January 2022 14:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের তৈরি ব্রাহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিতে মুগ্ধ ফিলিপিন্স। শক্তিশালী এই সুপারসনিক মিসাইল কিনতে কোটি কোটি টাকার বরাত দিয়েছে ফিলিপিন্সের নৌবাহিনী।
ব্রাহ্মস মিসাইল কিনতে বহু আগেই আগ্রহ প্রকাশ করেছিল ফিলিপিন্স। গত বছর থেকেই কথাবার্তা চলছিল। করোনার কারণে চুক্তি পিছিয়ে যায়। এ বছর পর পর দু'বার ব্রাহ্মসের শক্তি প্রদর্শন করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও। এরপরেই চুক্তির অঙ্ক পাকা করে ফেলে ফিলিপিন্স। সূত্রের খবর, ৩৭ কোটি ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। এই প্রথমবার দেশের তৈরি সমরাস্ত্রের রফতানি হবে ভিন দেশে। ফিলিপিন্সের নৌবাহিনীতে শোভা পাবে ভারতের তৈরি মিসাইল।
সূত্রের খবর, ফিলিপিন্স নৌবাহিনীর প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই হায়দরাবাদে ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস উৎপাদন ইউনিট পরিদর্শন করেছে। এ বছর থেকেই রফতানির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে বলে জানা যাচ্ছে।
রাশিয়া যে মাঝারি পাল্লার সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল বানিয়েছিল, দেশীয় প্রযুক্তিতে তারই উন্নত সংস্করণ হল ব্রাহ্মস। শব্দের চেয়ে দ্রুত গতি। যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন থেকে হেলিকপ্টার, অ্যাটাক কপ্টার তার ত্রিসীমানায় আসা শত্রুপক্ষের যে কোনও সামরিক অস্ত্রকে নিমেষে ধ্বংস করতে পারে ব্রাহ্মস। ভূমি, আকাশ, জল তিন জায়গায় থেকেই ছোড়া যায় এই ক্ষেপণাস্ত্র। এর বেগ এতটাই বেশি যে একবার টার্গেটের দিকে ধাওয়া করলে মাঝপথে তাকে থামিয়ে দেওয়া প্রায় অসম্ভব।
ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে থাকা ব্রাহ্মস পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতির অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল। এটি সারফেস-টু-সারফেস, এয়ার-টু-সারফেস এবং যুদ্ধজাহাজ থেকেও ছোড়া যায়। ল্যান্ড লঞ্চড, শিপ লঞ্চড ও এয়ার লঞ্চড ভ্যারিয়ান্ট রয়েছে। প্রতিরক্ষার তিন স্তম্ভ স্থলবাহিনী, বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে ব্রাহ্মস। এর গতি ঘণ্টায় ৩৭০০ কিলোমিটার। ব্রাহ্মসের হাইপারসনিক ভার্সন ব্রাহ্মস-২ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র আগে ২৯০ কিলোমিটার পাল্লা অবধি নিক্ষেপ করা যেত। অর্থাৎ ২৯০ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে যে কোনও টার্গেটে নির্ভুল নিশানা করতে পারত ব্রাহ্মস। পরে এর পাল্লা বাড়িয়ে ৪০০ কিলোমিটার করা হয়। এই পাল্লার ল্যান্ড অ্যাটাক ভার্সনও আছে আবার ন্যাভাল ভার্সনও আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের বিচারে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন পড়েছে।
গত বছর ব্রাহ্মসের নতুন ভ্যারিয়ান্টের পাল্লা বাড়িয়ে ৫০০ কিলোমিটার করেছিল ভারত। বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ক্রুজ মিসাইলের পাল্লা ৬০০ কিলোমিটারের বেশি রাখার চেষ্টা করার হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাহ্মসের নতুন প্রজন্ম শুধু দুরন্ত গতিতে ছুটবেই না একেবারে লক্ষ্যবস্তুর নাকের ডগায় গিয়ে আঘাত করবে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'