দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর রবিবার যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সীমান্ত বরাবর পাক সেনার অবিরাম গুলিবৃষ্টি এবং মর্টার শেলিংয়ের ফলে নিহত হয়েছেন একজন জুনিয়র কমিশনড অফিসার (জেসিও)।
জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে জম্মু ডিভিশনে রাজৌরি জেলায় নৌশেরা সেক্টর বরাবর গোলাগুলি ছুড়তে শুরু করে পাক সেনা। মূলত কালসিয়ান, খানগের এবং ভবানী এলাকায় যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাক সেনাবাহিনী। সেনা সূত্রে খবর, কালসিয়ান এলাকাতেই গুলিবিদ্ধ হন ওই অফিসার। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সেনা হাসপাতালে। সেখানেই কিছুক্ষণ পর মৃত্যু হয় তাঁর। আপাতত গোটা এলাকায় জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।
অন্যদিকে গতকাল অর্থাৎ শনিবার সীমান্ত এলাকায় একটি সুড়ঙ্গের কথা জানিয়েছেন বিএসএফ জওয়ানরা। জম্মুতে ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তে রয়েছে কাঁটাতারের বেড়া। তার নীচ দিয়ে খোঁড়া হচ্ছিল সুড়ঙ্গ। সেই পথে সোজা চলে আসা যেত পাকিস্তান থেকে ভারতে। কেউ যাতে না দেখতে পায়, সেজন্য সুড়ঙ্গের মুখ ঢাকা ছিল বালির বস্তা দিয়ে। এই বালির বস্তার মুখে আবার করাচি লেখা ছিল বলে জানিয়েছেন বিএসএফ কর্তারা।
বিএসএফের তরফে জানানো হয়েছে, ওই ধরনের আরও সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়েছিল কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে। অনুমান পাকিস্তান থেকে জঙ্গিদের ভারতে ঢোকানো ও মাদক চোরাচালানের জন্য সম্ভবত ওই সুড়ঙ্গ ব্যবহার করা হত। বিএসএফের ডিরেক্টর জেনারেল রাকেশ আস্থানা ফ্রন্টিয়ার কম্যান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন, সীমান্তে যেন নজরদারি আরও বাড়ানো হয়।
অন্যদিকে আজ সকালে শ্রীনগরের কাছে পন্থ চক এলাকায় এনকাউন্টারে খতম হয়েছে তিন জঙ্গি। নিহত হয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের এক এএসআই। এখনও জঙ্গিদের পরিচয় জানা যায়নি। এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী।
জানা গিয়েছে, গতকাল বেশ রাতের দিকে পন্থ চক এলাকায় নাকা চেকিং পোস্টে নিয়মমাফিক টহল দিচ্ছিলেন সিআরপিএফ জওয়ান এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের আধিকারিকরা। আচমকাই তাদের উপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তাবাহিনীও। সেই সময় দু’পক্ষের গুলির লড়াইয়ে নিহত হন জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের এএসআই। খতম হয় তিন জঙ্গিও।
এছাড়াও শুক্রবার রাতভর সংঘর্ষের পর দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় খতম হয়েছিল তিন জঙ্গি। শহিদ হয়েছিলেন এক সেনা জওয়ান। জানা গিয়েছে, নিহত জঙ্গিরা সকলেই হিজবুল মুজাহিদিনের সদস্য।
ওই একই দিনে দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলায় বেশ কয়েক ঘণ্টার এনকাউন্টারে চার জঙ্গি খতম হয়েছে। তার মধ্যে দু’জন জঙ্গিকে চিহ্নিত করতে পেরেছে পুলিশ। একজন আল বদর জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা শকুর আহমেদ। অন্য আর এক জঙ্গির নাম সুহেল ভাট।