দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের বালিয়াতে পুলিশের নামে এক যুবককে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল ধীরেন্দ্র সিংয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। অবশেষ তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। লখনউ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ধীরেন্দ্রকে। গতকালই স্থানীয় আদালতে ‘স্যারেন্ডার অ্যাপ্লিকেশন’ দিয়েছিল এই অভিযুক্ত। যার অর্থ এবার অভিযুক্তকে সরাসরি আদালতে আত্মসমপর্ণের সুযোগ দেওয়া হবে। তারপর বিচারপতি নির্দেশ দেবেন যে অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে থাকবে নাকি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে।
আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন মৃত যুবকের পরিবার। জানা গিয়েছে, বছর ৪৬-এর জয় প্রকাশকে গুলি করে মেরে ফেলেছিল এই ধীরেন্দ্র। ঘটনার দিন গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে তার তুমুল তর্কবিতর্ক হয় তাঁর। সেই সময় ধীরেন্দ্র জয় প্রকাশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। তবে এই হামলার দায় নিতে চায়নি ধীরেন্দ্র। বরং গতকাল তিনি বলেছিলেন, “আমি জানি না কে গুলি চালিয়েছিল। আমি আধিকারিকদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম আমার পরিবারকে বাঁচানোর জন্য। তাঁরা সেখানে দাঁড়িয়ে সবটা দেখছিলেন। আমি একজন জওয়ান। আমি সবসময় দেশের হয়ে কাজ করেছি। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ন্যায্য তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”
একটি ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন অভিযুক্ত ধীরেন্দ্র। নিজে ঘটনার দায় না নিয়ে বরং পুলিশ প্রশাসনের সব দোষ চাপিয়ে দেন ধীরেন্দ্র। ভিডিও বার্তায় ধীরেন্দ্র আরও বলেন, “এই বৈঠকে অনেক আধিকারিক ছিলেন। আমি তাঁদের আগেই সতর্ক করেছিলাম যে গণ্ডগোল হতে পারে। কিন্তু তাঁরা বৈঠক চালু রাখেন। সংঘর্ষে প্রশাসনের আধিকারিকরাই যুক্ত ছিলেন।” এই ঘটনায় তাঁর পরিবারের একজনের মৃত্যু হয়েছে ও আটজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন ধীরেন্দ্র।
তিনি আরও বলেন, “আমার বাবাকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়েছে। আমার পরিবারকে লাঠি দিয়ে মারা হয়েছে। আমাকে মারা হয়েছে। ভিডিওতেই সব দেখা যাচ্ছে। আমি একজন রাজপুত। আমি ১৮ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে কাজ করেছি। আমি নিজেকে বাঁচিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসি। কারণ নাহলে ওরা আমাকে মেরেই ফেলত।” অন্যদিকে এই ভিডিও বার্তার প্রকাশ্যে আসার আগেই অবশ্য এক বিজেপি বিধায়ক সুরেন্দ্র সিং ধীরেন্দ্রর সমর্থনে মুখ খুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালিয়েছিলেন ধীরেন্দ্র।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বালিয়ার দুর্জনপুরে রেশনের দোকানের মালিকানা নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেখানে ধীরেন্দ্রর সঙ্গে বচসা শুরু হয় জয়প্রকাশ নামের এক যুবকের। ধীরেন্দ্র নিজে একজন বিজেপি কর্মী এবং বিজেপি বিধায়ক সুরেন্দ্র সিংয়ের খুব কাছের লোক বলে পরিচিত। এছাড়া বিজেপির স্থানীয় ইউনিটের প্রাক্তন সভাপতিও ছিলেন ধীরেন্দ্র। এই বচসা চলাকালীনই নাকি ৪৬ বছরের জয়প্রকাশের উপর তিনটি গুলি চালান ধীরেন্দ্র। প্রাথমিক ভাবে এই ঘটনায় ভাই-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়। অবশেষে গ্রেফতার করা হল ধীরেন্দ্রকেও।