দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের জেরে তৈরি হওয়া সংকটজনক পরিস্থিতিতে নতুন তহবিলের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। যে কেউ এই তহবিলে আর্থিক সাহায্য প্রদান করতে পারবেন বলে জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এই তহবিলেই ২৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন অক্ষয় কুমার।
অক্ষয়ের এই কাজের জন্য গর্ব অনুভব করছেন স্ত্রী টুইঙ্কল খান্না। টুইট করে টুইঙ্কল লিখেছেন, "এই মানুষটা আমায় গর্বিত করেছে। আমি অক্ষয়কে জিজ্ঞেস করেছিলান যে ও সত্যিই এই টাকাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত কিনা। কারণ টাকার পরিমাণটা যথেষ্টই বেশি। আমার কথা শুনে অক্ষয় বলেছিল, আমি যখন জীবন শুরু করেছিলাম কিচ্ছু ছিল না আমার। আজ আমি সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি যেখানে আমার কিছু করার সামর্থ রয়েছে। তাহলে যাঁদের এখন কিচ্ছু নেই তাঁদের জন্য কিছু না করে কীভাবে থাকতে পারি আমি।"
https://twitter.com/mrsfunnybones/status/1243881516855447554
নরেন্দ্র মোদী ঘোষিত এই প্রকল্পটির নাম– ‘প্রাইম মিনিস্টারস সিটিজেন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড রিলিফ ইন এমারজেন্সি সিচুয়েশনস ফান্ড’ বা পিএম কেয়ার। এই ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী এবং সদস্য পদে রয়েছেন প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রী। শনিবার একটি টুইট করে মোদী লেখেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ ভারতে কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্যের ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। তাই সেই ইচ্ছের কথা মাথায় রেখেই এই ফান্ড গঠন করা হল। এই ফান্ডের মাধ্যমে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে এক সুস্থ ভারত গড়ে তোলা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর পরেই অভিনেতা অক্ষয় কুমার প্রধানমন্ত্রীর এই ত্রাণ তহবিলে ২৫ কোটি টাকা দান করার কথা ঘোষণা করেন। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্যই এই অর্থ দান বলে জানিয়েছেন অক্ষয়। নিজের ট্যুইটার আ্যাকাউন্টে অক্ষয় লিখেছেন, “এই সময়ে মানুষের জীবনের কথা আগে ভাবতে হবে। মানুষকে বাঁচাতে হবে। আমাদের তার জন্য সব রকম চেষ্টা করতে হবে। আমি আমার সেভিংস থেকে ২৫ কোটি টাকা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে দিলাম।”
অক্ষয় কুমারের পাশাপাশি আরও অনেকেই ওই ফান্ডে টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ক্রিকেটার সুরেশ রায়না। তিনি দিয়েছে ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে ৩১ লাখ টাকা এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ত্রাণ তহবিলে ২১ লাখ টাকা। এছাড়াও বাহুবলি অভিনেতা প্রভাস দিয়েছেন ৪ কোটি টাকা। দক্ষিণের আর এক অভিনেতা পবন কল্যাণ দিয়েছেন ২ কোটি টাকা, তেলুগু ছবির সুপারস্টার চিরঞ্জিবী ১ কোটি টাকা, আর এক তেলুগু অভিনেতা মহেশ বাবু ১ কোটি টাকা, আল্লু অর্জুন দিয়েছেন দেড় কোটি টাকা। এছাড়াও অভিনেতা রামচরণ তেজা ৭০ লাখ টাকা ও কমেডিয়ান কপিল শর্মা দিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি মহারাষ্ট্র সরকারকে ২৫ লক্ষ এবং প্রধানমন্ত্রীর এই তহবিলে ২৫ লক্ষ টাকা দিয়েছেন শচীন তেণ্ডুলকর।