দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাতিকগ্রস্ত বউয়ের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে তাঁকে খুন করেছেন স্বামী। তারপর আত্মঘাতী হয়েছেন নিজেও। এই ঘটনা কর্নাটকের মাইসুরু শহরের।
কিন্তু কী এমন বাতিক ছিল মহিলার, যে একেবারে খুন হতে হল তাঁকে---
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সাংঘাতিক বাতিক ছিল খুন হওয়া এই মহিলার। দিনে একাধিকবার স্নান করাতেন নিজের সন্তানদের। এমনকি স্বামীর দেওয়া টাকার নোটও কেচে পরিষ্কার করে নিতেন। প্রশ্ন করলেই বলতেন, নানা জাতের ছোঁয়া টাকা কিছুতেই ঘরে তুলবেন না।
বিয়ের পর থেকেই নাকি এমনটা চলছে শান্তামূর্তি এবং পুত্তামনির সংসারে। বছর পনেরো আগে পুত্তামনিকে বিয়ে করেছিলেন শান্তামূর্তি। তারপর যত দিন গিয়েছে, বউয়ের আচরণে হতবাক হয়ে গিয়েছেন স্বামী। এমনকি স্থানীয়রাও একবাক্যে বলছেন, পুত্তামনির মতো অদ্ভুত মানুষ তাঁরা আর দুটো দেখেননি। একই কথা আত্মীয়-স্বজনের মুখেও।
আত্মীয়দের কথায়, বিয়ের পরপর প্রথমদিকে এতটা বাড়াবাড়ি ছিল না। কিন্তু গত ৮ বছর ধরে যেন একেবারেই ভোল বদলে গিয়েছিল পুত্তামনির। কুসংস্কারের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কেউ বাড়িতে এলে তাকেই পুত্তামনি বলতেন যেন স্নান করে ঘরে ঢোকে। ভয়ে পড়শি থেকে আত্মীয়-পরিজন সকলেই তাঁদের বাড়তে আসা ছেড়ে দিয়েছিলেন।
এক আত্মীয়ের কথায়, “কোনওদিন শুনেছেন টাকার নোট কেচে সেটা আবার কেউ শুকাতেও দেয়। পুত্তামনি এমনই সব অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা করত। নিজের সাত এবং বারো বছরের দুই সন্তানকে দিনে যে কতবার স্নান করাত তা গুনে বলা মুশকিল। বাচ্চারা ঘনঘন ঠান্ডা লেগে এই কারনে অসুস্থও হয়ে পড়ত। কিন্তু তাতেও কোনও হেলদোল ছিল না মায়ের।“
এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, হামেশাই নিজের সমস্যার কথা পাড়া-প্রতিবেশীকে বলতেন শান্তামূর্তি। বাড়িতে আজব সব নিয়ম বানিয়েছিলেন পুত্তামনি। বাথরুমে গেলে, গবাদি পশুকে খাওয়ালে কিংবা অন্য জাতের কাউকে ছুঁয়ে ফেললে স্নান করতেই হবে। এই নিয়ে নিত্যদিন স্বামী এবং সন্তানদের সঙ্গে ঝগড়া লেগেই থাকত পুত্তামনির।
দিনের পর দিন এই অত্যাচার আর সহ্য হচ্ছিল না শান্তামূর্তির। মঙ্গলবার দু’জনের মধ্যে শুরু হয় তুমুল ঝগড়া। অশান্তির পারদ পৌঁছয় চরমে। রাগের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করেন শান্তামূর্তি। তারপর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন নিজেও। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে দম্পতির সন্তানই প্রথম দেখতে পায় বাবার ঝুলন্ত দেহ। সাহায্য চাইতে স্থানীয়দের কাছে ছুটে যায় দু’জন। প্রতিবেশীরা এসে দেখেন ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে শান্তামূর্তির। এরপর পুত্তামনির খোঁজ শুরু হয়। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর কাছেই একটি ক্ষেত থেকে উদ্ধার হয় পুত্তামনির ক্ষতবিক্ষত দেহ।
এক প্রতিবেশীর কথায়, সেদিন সকাল থেকেই অশান্তি শুরু হয়েছিল শান্তামূর্তি এবং পুত্তামনির বাড়িতে। সকাল সকাল স্নান করা নিয়ে একপ্রস্থ ঝামেলা হয় দু’জনের। এরপর দুপুরে বাজার থেকে ধান বিক্রি করে বাড়ি ফেরে শান্তামূর্তি। উপার্জন তুলে দেয় পুত্তামনির হাতে। স্বভাববশত টাকা ধুতে বসে পড়েন পুত্তামনি। এরপরেই শুরু হয় তুমুল অশান্তি। শেষ পর্যন্ত পরিণতি হয়েছে ভয়ঙ্কর এবং মর্মান্তিকও। প্রতিবেশী এবং আত্মীয়দের সকলেই বলছেন, পুত্তামনির এই অন্ধবিশ্বাসের জন্যই অকালে অনাথ হয়ে গেল দুটো শিশু।