দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ চিনের বিরুদ্ধে এর আগেও অনেকবার আমেরিকার সাহায্য ভারতের দরকার রয়েছে বলে দাবি করে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফের একবার একই রকমের দাবি করলেন আমেরিকার সেক্রেটারি মাইক পম্পেও। বললেন, ভারতের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে দিন। এই অবস্থায় ভারতের পাশে আমেরিকাকে প্রয়োজন তাদের। সাহায্য করতে আমেরিকাও তৈরি বলেই জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার মাইক পম্পেও বলেন, “চিনের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে পার্টনার হিসেবে আমেরিকাকে প্রয়োজন ভারতের। চিন এই মুহূর্তে উত্তরে ভারতের বিরুদ্ধে প্রচুর সেনা মোতায়েন করা শুরু করেছে। এই ঘটনায় গোটা বিশ্ব জেগে উঠেছে। পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা এই আতঙ্কের বিরুদ্ধে লড়াই করে এক উজ্জ্বল পৃথিবী তৈরি করতে চাইছে।” টোকিওতে ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বৈঠকে এই কথা বলেন মাইক পম্পেও। সেখানে চার দেশের মধ্যে প্যাসিফিক নেশনস বৈঠকে অংশ নিতে গিয়েছেন তিনি।
টোকিওর এই বৈঠকের পরে স্বল্প সময়ের জন্য ভারতে আসবেন মাইক পম্পেও। তাঁর সঙ্গে থাকবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এসপার। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। আগামী সপ্তাহে আমেরিকার ডেপুটি সেক্রেটারি স্টিফেন বিয়েগানেরও ভারতে আসার কথা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে তাঁর। এইসব একগুচ্ছ বৈঠক থেকেই পরিষ্কার ভারত ও আমেরিকা দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও উন্নতি হতে চলেছে।
ভারতের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক গত এপ্রিল- মে মাস থেকেই উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে লাদাখে বারবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। গত ১৫ জুন চিনা সেনার হামলায় ভারতের ২০ জওয়ান শহিদ হয়েছেন। ভারতের পালটা জবাবে চিনের অন্তত ৩৫ জওয়ান নিহত হয়েছে বলে খবর। বেশ কিছুদিন পরে এই কথা মেনেছে চিন। যদিও কতজন সেনা নিহত হয়েছে সেই বিষয়ে কিছু জানায়নি তারা।
১৫ জুনের পর থেকে সেনার উচ্চপর্যায়ে ও কূটনৈতিক স্তরে ভারত ও চিনের মধ্যে অনেক বৈঠক হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে কোনও রফাসূত্র বের হয়নি। বারবার সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা ভঙ্গ করেছে চিন। তাই ভারতও নিজেদের সীমান্ত নীতি বদলেছে। ভারতের তরফেও সীমান্তে প্রচুর সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এমনকি প্রয়োজন পড়লে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভারতীয় সেনাকে।
চিনের সঙ্গে এই সমস্যা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতা বা সাহায্য কিছুই চায়নি ভারত। নয়াদিল্লির তরফে বারবার জানানো হয়েছে, নিজেদের এলাকা সুরক্ষিত রাখার ক্ষমতা ভারতীয় সেনার রয়েছে। কিন্তু তাও বারবার আমেরিকার তরফে সাহায্যের কথা বলা হয়েছে। আমেরিকার সম্প্রতি এই মন্তব্যের জবাবে অবশ্য নয়াদিল্লির তরফে কিছু বলা হয়নি।