দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মধ্যে সাতদিনেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ১২০০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে অসুস্থ বাবাকে গুরুগ্রাম থেকে বিহারের দ্বারভাঙায় ফিরিয়ে এনেছিল বছর ১৫-র জ্যোতি কুমারী। এই মেয়েকেই এবার ফ্রি-তে আইআইটি-জেইই প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য পড়াবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিহারেরই গণিতজ্ঞ আনন্দ কুমার।
বিহারের দুস্থ এবং মেধাবী ছেলেমেয়েদের অনেকদিন ধরেই আইআইটি-জেইই প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য ট্রেনিং দেন আনন্দ কুমার। তিনি নিজেও ছিলেন দুস্থ পরিবারের মেধাবী সন্তান। বিদেশে পড়ার সুযোগ পেয়েও কেবল টাকার অভাবেই যেতে পারেননি। বাবার আচমকা মৃত্যুতে পাপড় বিক্রি করে সংসারের জোয়াল টানতে নেমে পড়েন আনন্দ। হৃতিক রোশনের ‘সুপার থার্টি’-র দৌলতে যাঁরা আনন্দ কুমার এবং তাঁর জার্নির কথা জানতেন না তাঁরাও এখন এই মাস্টারমশাইকে চেনেন।
নিজে ব্রেন টিউমারের পেশেন্ট আনন্দ। জানেন দিন ঘনিয়ে আসছে। খুব স্বচ্ছ্বলও নন তিনি। তাও নিজের ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর জন্য এই মাস্টারমশাই না নেন কোনও দান-সাহায্য, না নেন পারিশ্রমিক। কারণ তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস তাঁর শিষ্যরা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে। আর সেটাই হবে আনন্দ কুমারের গুরুদক্ষিণা। অর্থাভাবে প্রতিভা নষ্ট হওয়া এবং পড়াশোনা করতে না পারার কষ্ট হাড়ে হাড়ে বোঝেন তিনি। সেজন্যই বোধহয় জ্যোতিকেও সামিল করতে চলেছেন ‘সুপার থার্টি’-র দলে।
সম্প্রতি টুইট করে আনন্দ জানিয়েছেন, তাঁর দাদা প্রণব কুমার ইতিমধ্যেই জ্যোতি কুমারী এবং তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করেছেন। সেই সঙ্গে আনন্দ বলেন, “জ্যোতি যদি আগামীদিনে আইআইটি-র জন্য নিজেকে তৈরি করতে চায় থাকলে সুপার থার্টি-তে ওকে স্বাগত।“
https://twitter.com/teacheranand/status/1264808259187175424?s=08
গুরুগ্রামে ই-রিকশ চালাতেন জ্যোতির বাবা। কয়েকদিন আগে অ্যাক্সিডেন্ট হয় তাঁর। বাবার দেখাশোনা করতে গুরুগ্রামে যায় জ্যোতি। তারপরেই ঘোষণা হয় লকডাউন। একে বাবার কাজ নেই, তার মধ্যে জমা-পুঁজিও প্রায় শেষের পথে। এদিকে বাড়িভাড়ার জন্য ক্রমাগত তাগাদা দিচ্ছে বাড়িওয়ালা। অগত্যা বাবাকে সাইকেলে চাপিয়েই গ্রামে ফিরবে বলে ঠিক করে জ্যোতি। কাজেও করে দেখায় সেটাই।
জ্যোতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই তা নজরে আসে ভারতের সাইক্লিং ফেডারেশনের। কিশোরীর প্রতিভা দেখে তাকে দিল্লির আইজিআই স্টেডিয়ামে ট্রায়ালে ডেকেছে সাইক্লিং ফেডারেশন। বিহারের এই কিশোরীর বাবার প্রতি ভালবাসা এবং দায়িত্ব-কর্তব্যবোধ দেখে মুগ্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পও। টুইট করে সেকথা জানিয়েওছেন তিনি।