দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনে জুটেছিল শুধুই লাঞ্ছনা। মারধর, ঝগড়া, চিৎকার, অশান্তি----নিত্যদিন এইসবই ছিল সংসারের সঙ্গী। অবশেষে জীবনে এসেছিল প্রাণের মানুষ, যার সঙ্গে নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলেন নির্যাতিতা তরুণী। ভেবেছিলেন এতদিন পর সব দুঃখ ঘুচবে। তবে সুখের বদলে ফের ওই তরুণীর কপালে জুটেছে লাঞ্ছনা। পরপুরুষের সঙ্গে পালানোর অভিযোগে তরুণীকে দোষীর তকমা দিয়েছে সমাজ। এখানেই শেষ নয়। গ্রামের মাতব্বররা সালিশি সভা বসিয়ে নিদানও দিয়েছেন তরুণীকে।
এই ঘটনা অরুণাচলপ্রদেশের ছাংলান জেলার। গত ২৫ সেপ্টেম্বর তরুণীকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার জন্য জড়ো হন গ্রামের মাতব্বররা। প্রথমে কনকনে ঠান্ডা জলে রাত্রিবেলা স্নান করানো হয় তরুণীকে। এরপরেই শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। ভয়ঙ্কর কিছু হতে চলেছে এই আশঙ্কায় যে গাড়িতে করে ওই তরুণীকে আনা হয়েছিল সেখানেই লুকিয়ে পড়েন তিনি। তবে সেখান থেকে টেনে হিঁচড়ে নামানো হয় তাঁকে। জোর করে ছিঁড়ে দেওয়া হয় জামাকাপড়। অর্ধনগ্ন অবস্থায় তরুণীর ভিডিও তুলতে শুরু করে কয়েকজন। কোনও মতে সেখানে থেকে পালাতে পারলেও ওই ভিডিও এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও আর একজন বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে পালানোর অপরাধে তরুণীর জামাকাপড় ছিঁড়ে, চুল কেটে নির্মম ভাবে অত্যাচার চালিয়েছে গ্রামের মুরুব্বিরা।
নির্যাতিতা তরুণী জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে ঝামেলা লেগেই রয়েছে তাঁর। দু'পক্ষের পরিবার বহুবার সামনাসামনি বসে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করলেও সমঝোতা হয়নি। বরং আলোচনা, পাল্টা আলোচনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তরুণী জানিয়েছেন, হামেশাই তাঁকে মারধর করত স্বামী। প্রতিবাদ করলে জুটত আরও বেধড়ক মার। তরুণী আরও জানিয়েছেন, অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন তাঁর পেটে লাথি মারে স্বামী। সেজন্য মিসক্যারেজও হয় তাঁর। একবার নয়, এ ঘটনা হয়েছে দু'বার। অসংখ্য বার স্বামীর হাতে বেধড়ক মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তরুণী। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর শাশুড়ি ছেলেকে আরও উস্কানি দিতেন বউকে মারধর করার ব্যাপারে।
তরুণী আরও জানিয়েছেন, যাঁর সঙ্গে তিনি পালিয়েছিলেন তিনি জানতেন এই অত্যাচারের কথা। ওই ব্যক্তি তাঁকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপরেই ঘর ছাড়েন তরুণী। প্রথমে অবশ্য রাজি হননি তরুণী। পরে তিনি রাজি হয়ে যান। অসমের তিনসুকিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। তবে তরুণীর পালানোর খবর পেয়ে তাঁর স্বামীর পরিবার তাঁদের ডেকে পাঠায় এবং বলে সব সমস্যা মিটিয়ে নেওয়া হবে এবার। সেই কথাতেই গ্রামে ফেরেন ওই তরুণী ও তাঁর সঙ্গী। তারপরেই শুরু হয় নির্যাতন।
এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করেছে অরুণাচলপ্রদেশের পুলিশ। মোট ৩৮ জনের নাম সামনে এসেছে যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ১৫ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে ৯ জন মহিলা।