দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর এবং মধ্য ভারতের আতঙ্কের নতুন নাম পঙ্গপাল। ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল ঢুকেছে দেশে। মোট ১৬টি রাজ্যে সতর্কতা জারি করেছে সরকার। মুম্বইয়ের পর দিল্লিতেও জারি হয়েছে অ্যালার্ট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ২৭ বছর এই প্রথম পঙ্গপালের উৎপাতে আগামী দিনে ভয়াবহ অবস্থা দেখতে চলেছেন রাজস্থান, পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রের চাষিরা। গতবছরও পাকিস্তান থেকে রাজস্থানে প্রবেশ করেছিল পঙ্গপালের দল। আর নষ্ট করেছিল অসংখ্যা ক্ষেতের ফসল।
তবে এবছর মাত্রাটা অনেক বেশি। হরিয়ানা, হিমাচলপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং কর্নাটকেও পঙ্গপালের হানার সতর্কতায় জারি হয়েছে অ্যালার্ট। রাষ্ট্রসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন (এফএও) জানিয়েছে, হয়তো আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিহার এবং ওড়িশাতেও প্রবেশ করতে পারে পঙ্গপালের দল।
ইতিমধ্যেই বায়ুসেনার কপ্টারে করে রাসায়নিক ছড়ানোর ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এছাড়াও ১১টি মনিটরিং স্টেশন তৈরি হয়েছে। যেখান থেকে সর্বক্ষণ পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন পর্যবেক্ষকরা। পঙ্গপালের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আরও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করছে সরকার।
একদিনে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উড়তে পারে এই পঙ্গপালরা। বায়ুর গতিপথের সঙ্গেই এদের দিক নির্ধারিত হয়। এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিমের রাজ্য রাজস্থান। প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমির ফসল তছনছ করে দিয়েছে পঙ্গপালের দল। শ্রী গঙ্গানগর, জয়সলমীর, বারমের, বিকানির, যোধপুর, চুরু, নাগৌর, আজমেঢ়, জয়পুর এবং দাউসা------রাজস্থানের এই জেলাগুলির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে।
উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি এবং সোনভদ্র এই দুই জেলায় ইতিমধ্যেই পঙ্গপালের হানা হয়েছে। তবে খুব বেশি ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছে প্রশাসন। যদিও উত্তরপ্রদেশের একাধিক রাজ্যে জারি হয়েছে অ্যালার্ট।
পূর্ব মহারাষ্ট্রের বালাঘাট জেলা থেকে মধ্যপ্রদেশে প্রবেশ করেছে পঙ্গপালের দল। সেখানকার শিবপুরি জেলায় ভালই প্রভাব ফেলেছে পঙ্গপালের ঝাঁক। এর মধ্যেই মুম্বইতেও ঢুকে পড়েছে পঙ্গপালের দল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে তাদের উৎপাতের ভিডিও।