দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাটার আগে শুধু পেঁয়াজের দাম শুনে চোখে জল আসছে মধ্যবিত্তের। পুজোর মরশুমে পেঁয়াজের লাগামছাড়া দামে নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের। কার্যত ছ্যাঁকা দিচ্ছে পেঁয়াজের দাম। ইতিমধ্যেই অনেক জায়গায় ১০০ পেরিয়েছে পেঁয়াজের দাম।
বেশ কয়েকদিন ধরেই বাজারে দাম বাড়ছিল পেঁয়াজের। তবে এতদিন যা ছিল কেজিতে ৭০ কিংবা ৮০ টাকা এখন সেটাই কেজি প্রতি ১০০ টাকা। কোথাও কোথাও দাম ১০০ পেরিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন আপাতত দাম কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। ফলে আগুন লেগেছে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে। কিন্তু কেন এভাবে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম? এর জন্য প্রকৃতিকেই দায়ী করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, যেহেতু এবছর বর্ষার মরশুমে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে সেজন্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ফলন হয়ে যাওয়া পেঁয়াজের একটা বড় অংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যেটুকু ফলন হয়েছিল তাও সারা দেশে বণ্টন সম্ভব হয়নি। এর প্রভাবেই দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। এছাড়াও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে ফসল বোনার ক্ষেত্রেও দেরি হয়েছে।
আমাদের দেশে পেঁয়াজ উৎপন্ন হয় মূলত নাসিক, আহমেদনগর, পুণে, ধুলে, শোলাপুরে। মহারাষ্ট্রের এই জায়গাগুলো বাদ দিলে পেঁয়াজ উৎপন্ন হয় কর্নাটক, গুজরাত, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশে। দেখা গিয়েছে, চলতি বছর ভারী বর্ষণ এবং বন্যার জেরে মহারাষ্ট্র, কর্নাটক আর অন্ধ্রপ্রদেশের একরের পর একর জমি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে সেখানে উৎপাদনের এই মুহূর্তে কোনও আশা নেই। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১২০ বা ১৩০ টাকা হতে পারে। হায়দরাবাদ এবং চেন্নাইতে এর মধ্যেই পেঁয়াজের কিলো ১৩০ টাকা হয়েছে।
স্বভাবতই পেঁয়াজের এমন চড়া দামের ফলে মাথায় হাত পড়েছে মধ্যবিত্তের। অন্যান্য সবজির দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কায় রয়েছে আমজনতা। যদিও ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি শিথিল করছে কেন্দ্র। এতে কিছুটা সুরাহা হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারও আশা প্রকাশ করেছে যে সম্ভবত শীঘ্রই বাজারে আসতে শুরু করবে পেঁয়াজ এবং এই মাত্রাছাড়া দাম হয়তো কিছুটা হলেও কমবে। স্বস্তি পাবেন সাধারণ মানুষ।