দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তে বাধা দিচ্ছে মুম্বই পুলিশ। সেই সঙ্গে তারা সাহায্য করছে রিয়া চক্রবর্তীকে। সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা একটি রিপোর্টে সম্প্রতি এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছে বিহার সরকার।
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে বেশ কয়েকদিন আগেই। পাটনার রাজেন্দ্র নগর থানায় সুশান্তের বান্ধবী রিয়া, তাঁর ভাই শৌভিক-সহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন অভিনেতার বাবা কে কে সিং। রিয়ার বিরুদ্ধে, ষড়যন্ত্র, আর্থিক প্রতারণা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ আনেন তিনি।
এর পরেই মুম্বই পুলিশের পাশাপাশি সুশান্তের মৃত্যুর তদন্ত শুরু করে বিহার পুলিশ। তখনই সুপ্রিম কোর্টে রিয়া আবেদন জানান যে সুশান্তের মৃত্যুর তদন্ত যেন বিহার থেকে মুম্বইতে সরিয়ে আনা হয় এবং মুম্বই পুলিশের হাতেই তদন্তভার দেওয়া হয়। এই মামলার শুনানি ছিল গত ৫ অগস্ট। রিয়ার তরফের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে এই প্রসঙ্গে সুশান্তের বাবা এবং মুম্বই ও বিহার পুলিশের যা বলার আছে তা যেন তিন দিনের মধ্যে লিখিত রিপোর্টে জমা দেওয়া হয়।
আজ সুপ্রিম কোর্টে সেই রিপোর্টই জমা দিয়েছে বিহার সরকার। রিপোর্টে বলা হয়েছে রিয়া কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি যে পাটনা পুলিশ একপেশে হয়ে কোনও একতরফা তদন্ত করছে। বরং বারবার বিহার পুলিশের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন তিনি।
বিহারের সরকার আরও জানিয়েছে, যেহেতু সুশান্তের বাবা পাটনায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন এবং সুশান্ত ও তাঁর বাবা কৃষ্ণ কুমার সিং দু'জনেই যেহেতু বিহারের বাসিন্দা তাই মুম্বই পুলিশের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করেছিল বিহার পুলিশ। তবে পরে তদন্তের গুরুত্ব বুঝে তা সিবিআইয়ের হাতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় বিহার সরকার।
পাটনার আইপিএস অফিসার বিনয় তিওয়ারিকে জোর করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো নিয়ে এ দিন বিএমসিকেও একহাত নিয়েছে বিহার সরকার। সুপ্রিম কোর্টকে তারা জানিয়েছে, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও এবং দেশে শীর্ষ আদালতের বয়ান শোনার পরেও ওই অফিসারকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছুটি দেওয়া হয়নি। অবশেষে আজ সকালে বিনয় তিওয়ারি কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া পেয়েছেন।