দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেএনইউ-তে হামলার ঘটনার তদন্ত নিয়ে দিল্লি পুলিশের সাংবাদিক বৈঠক শেষ হয়েছে কি হয়নি, বাম ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে ঝাঁঝালো আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি। তিনি বলেন, এই তো বামেদের মুখোশ খুলে গিয়েছে। ওরাই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিল, ওরাই জনগণের সম্পত্তি নষ্ট করেছে, ছাত্রছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশনে বাধা দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, আজকের রিপোর্টে স্পষ্ট হয়ে গেল বামেরাই হামলার পিছনে। নিজেরা তাণ্ডব করে আরএসএস, এবিভিপির নাম জড়িয়েছে।
https://twitter.com/smritiirani/status/1215602467305590785
শুক্রবার বিকেলেই দিল্লি পুলিশের সদর দফতরে জেএনইউ-হামলার তদন্ত নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন যুগ্ম কমিশনার জয় তিরকে ও মুখপাত্র এমএস রান্ধাওয়া। তিরকে জানান, মোট ৯ জন হামলাকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে যেমন বাম বিরোধী সংগঠনের নেতা বা ছাত্ররা রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন জেএনইউ-র ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষও। গত রবিবার তথা ৫ জানুয়ারি বিকেলে পেরিয়ার হস্টেলে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ঐশীই। এ ব্যাপারে বাকি আটজনের সঙ্গে ঐশীর ছবিও প্রকাশ করে দিল্লি পুলিশ।
ওই সাংবাদিক বৈঠকের পরেই সোশাল মিডিয়ায় বামেদের বিরুদ্ধে তেড়েফুঁড়ে নামেন স্মৃতি ইরানি সহ বিজেপি নেতা নেত্রীরা। জেএনইউ-তে হামলার পর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় রটে গিয়েছিল যে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপিই হামলা চালিয়েছে। সেই প্রচার এমন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে যে এবিভিপির পাল্টা অভিযোগকে কেউ কোনও গুরুত্বই দিতে চায়নি। ফলে কিছুটা কোণঠাসাই হয়ে গিয়েছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু দিল্লি পুলিশের সাংবাদিক বৈঠকের পর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ফের অক্সিজেন পেয়েছে তারা।
প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, "এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু হোক। অনেক হয়েছে। বাবা-মা ছাত্রছাত্রীদের কেন পাঠায় পড়তে? পড়াশোনা করার জন্যই তো! মারামারি করার জন্য তো পাঠায় না।" তাঁর কথায়, "রবিবারই আমার মনে হয়েছিল এই হামলার পিছনে বামেরাই রয়েছে। ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যে যোগেন্দ্র যাদব ওখানে পৌঁছে গেলেন, পাঁচ মিনিটের মধ্যে সীতারাম ইয়েচুরি প্রতিক্রিয়া দিয়ে দিলেন, এটা কী ভাবে হয়?" আন্দোলনের ধারা নিয়েও বামেদের তীব্র সমালোচনা করেন জাভড়েকর। তাঁর কথায়, "এটা কী ধরনের আন্দোলন? মাঝে তো একদিন শুনলাম, উপাচার্য ছিলেন না, তাঁর স্ত্রীকেই কোয়ার্টারে ঘেরাও করে রেখেছিল বামে ছাত্র সংগঠনগুলি। এটা কি কোনও আন্দোলন হল? এই হিংসা বন্ধ হোক।"
স্মৃতি ইরানি বলেন, এখন পরিষ্কার তো যে জেএনইউ-তে হিংসার পিছনে বামেরাই ছিল। শিক্ষার পীঠস্থানকে ওরা রাজনীতি করার আখাড়ায় পরিণত করেছে। যদিও দিল্লি পুলিশের দাবিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেছেন ঐশী। তিনি বলেছেন, “আমি কোনও অন্যায় করিনি। কেন দিল্লি পুলিশ আমার বিরুদ্ধে পক্ষপাত করছে?” অন্যদিকে বামেদের বক্তব্য, দিল্লি পুলিশ তদন্তের নামে প্রহসন করছে। রাজনৈতিক প্রভুর নির্দেশে হয়কে নয় করছে। মানুষ এত বোকা নয়।