দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ জুন সোমবার সকালেই কাঠুয়া কাণ্ডের রায় দিয়েছিল পাঠানকোটের বিশেষ আদালত। ৮ অভিযুক্তের মধ্যে ৬ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। বিকেল গড়াতেই দোষীদের সাজা ঘোষণা করল পাঠানকোটের বিশেষ আদালত। ৩ দোষীর ৫ বছরের জেল এবং বাকি ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছেন বিচারপতি।
২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি জম্মুর কাঠুয়া গ্রাম থেকে উদ্ধার হয়েছিল আট বছরের কিশোরীর দেহ। চারদিন ধরে স্থানীয় মন্দিরে আটকে রেখে লাগাতার ধর্ষণ করা হয় ওই কিশোরীকে। তারপর শ্বাসরোধ করে নির্মম ভাবে খুন করা হয় তাকে। ১০ জুন কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে অকথ্য অত্যাচার। ঘটনার তিনদিন পর ১৭ জানুয়ারি উদ্ধার হয় ওই কিশোরীর দেহ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৬ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল পাঠানকোটের বিশেষ আদালত। এই অভিযুক্তদের মধ্যে ছিল পুলিশ অফিসার দীপক খাজুরিয়া, প্রবেশ কুমার এবং মন্দিরের পুরোহিত সঞ্জি রাম। এই সঞ্জি রামই ছিল কাঠুয়ার নৃশংস ঘটনার অন্যতম পাণ্ডা। এ ছাড়াও রয়েছে সাব ইনস্পেকটর আনন্দ দত্ত, হেড কনস্টেবল তিলক রাজ, সঞ্জি রামের ছেলে বিশাল এবং তার নাবালক ভাইপো।
এদের মধ্যে সঞ্জি রাম, প্রবেশ কুমার এবং দীপক খাজুরিয়ার বিরুদ্ধে আরপিসি-র (Ranbir Penal Code) ৩৬৩ (অপহরণ), ৩০২ (খুন), ৩৭৬ডি (গণধর্ষণ) এবং ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র)------এই চারটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি তিন দোষী সুরেন্দ্র ভার্মা, আনন্দ দত্ত এবং তিলক রাজের বিরুদ্ধে আরপিসি-র ( Ranbir Penal Code) ২০১ ধারায় (তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং মিথ্যে তথ্য প্রদান) অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি এক ভয়ঙ্কর খবর কেঁপে গিয়েছিল গোটা দেশ। উদ্ধার হয়েছিল ৮ বছরের এক কিশোরীর একেবারে ক্ষতবিক্ষত দেহ। জানা গিয়েছিল, জম্মুর কাছে কাঠুয়া জেলায় একটি মন্দিরে চারদিন ধরে (১০ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি) আটকে রাখা হয়েছিল ওই কিশোরীকে। চলেছিল লাগাতার ধর্ষণ। সঙ্গে নির্মম অত্যাচার। নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছিল ওই কিশোরীকে। ঘটনার তিনদিন পর ১৭ জানুয়ারি উদ্ধার হয় কিশোরীর দেহ। পুলিশ জানিয়েছিল, মাদক খাইয়ে বেহুঁশ করে কিশোরীর উপর টানা চারদিন ধরে পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়েছিল। বাচ্চাটিকে খেতেও দেওয়া হয়নি। এরপর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় তাকে। এবং সে মারা যাওয়ার পর দেহ যাতে চিনতে পারা না যায় সে জন্য পাথর দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল কিশোরীর মুখ।
গত ৩ জুন পাঠানকোটের বিশেষ আদালতে সাক্ষ্যদান প্রক্রিয়া শেষ হয়। ক্যামেরা বন্দি করে রাখা হয় গোটা প্রক্রিয়া। ১০ জুন রায় দানের দিন ঘোষণা করেন সদর দায়েরা আদালতের বিচারপতি তেজবিন্দর সিং। এ দিন সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয় পাঠানকোটের বিশেষ আদালত চত্বর। কোনওরকম অশান্তি এড়াতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।