পুলিশ-মাস্টারমশাই, পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের রোজ ক্লাস নেন বেঙ্গালুরুর সাব-ইন্সপেক্টর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে সংক্রমণ রুখতে দীর্ঘদিন ধরে টানা লকডাউন চলেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এখন নিয়মের কড়াকড়িতে খানিক শিথিলতা এলেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় আংশিক লকডাউন চলছে। আর এই লকডাউনে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। ভিন রাজ্
শেষ আপডেট: 8 September 2020 09:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে সংক্রমণ রুখতে দীর্ঘদিন ধরে টানা লকডাউন চলেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এখন নিয়মের কড়াকড়িতে খানিক শিথিলতা এলেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় আংশিক লকডাউন চলছে। আর এই লকডাউনে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। ভিন রাজ্য থেকে নিজের রাজ্যে ফেরাটাই ছিল তাঁদের কাছে মূল চ্যালেঞ্জ। মাথার উপর ছাদ, দু'বেলা অন্নের সংস্থান----সব ক্ষেত্রেই চরম সংকটে পড়েছিলেন তাঁরা। সেইসঙ্গে প্রায় শিকেয় উঠেছে ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সংসারগুলোর পক্ষে সন্তানের পড়াশোনার জন্য স্মার্টফোন জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, সেই গত মার্চ মাস থেকে এ দেশে পঠনপাঠনের সবই চলছে ডিজিটাল মাধ্যমে।

স্মার্টফোনের অভাবে পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হতে বসা একদল কচিকাঁচার দায়িত্ব তাই এবার নিয়েছেন বেঙ্গালুরুর এক পুলিশকর্মী। পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের নিজেই ক্লাস নেন সাব ইন্সপেক্টর সন্থাপ্পা জাদেম্মানাভর। ডিউটির সময় ছাড়া বাকি অবসর সময় ওই খুদেদের জন্যই রেখেছেন তিনি। প্রতিদিন ডিউটিতে যাওয়ার আগে কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরু শহরেই ফুটপাথের উপরে চলে পুলিশ মাস্টারমশাইয়ের ক্লাস। সন্থাপার কথায়, "পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদেরও পড়াশোনা করার অধিকার রয়েছে। স্কুলে জেতে না পারা বা অনলাইন ক্লাস করতে না পারাটা কখনই ওদের অপরাধ নয়। আমি একেবারেই চাইনি যে ওরা ওদের বাবা-মায়ের সঙ্গে এত ছোট বয়সেই কাজকর্মে যোগ দিয়ে দিক। ওদের পড়াশোনা করিয়ে শিক্ষিত করাই এখন আমার মূল লক্ষ্য।"

প্রতিদিন সকালে পুলিশ স্যারের টানে হাজির হয় ছেলেমেয়ে মিলিয়ে প্রায় ২৫ জন ছাত্রছাত্রী। একদম নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হয়ে যান মাস্টারমশাইও। বেঙ্গালুরুর অন্নপূর্ণেশ্বরী নগরে
ফুটপাথের উপরেই ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বসে পড়েন তিনি। তিনটি সারিতে ভাগ করে বসিয়ে দেন পড়ুয়াদের। সামনে টাঙানো হয় সাদা গ্লোসাইন বোর্ড। সেখানে এঁকে-লিখে ছাত্রছাত্রীদের পড়া বুঝিয়ে দেন সন্থাপা। ডিউটি যাওয়ার আগে পর্যন্ত চলে ক্লাস। সাব ইন্সপেক্টর সন্থাপার কথায়, "এমনিতে লকডাউনের জেরে অনেকেই কাজ হারিয়েছেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থা আরও করুণ। স্কুলও বন্ধ। চলছে অনলাইন ক্লাস। এই অবস্থায় কাউকে তো উদ্যোগ নিতেই হয়। নইলে স্কুল পালানোর সংখ্যা আগামী দিনে হয়তো আরও বেড়ে যাবে। তাই খুব অল্প কয়েকজনের জন্য হলেও এই বাচ্চাদের পড়াশোনার দায়িত্ব আমি নিয়েছি।" 