দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ে কঙ্গনা রানাওয়াতের অফিসে বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের কর্মীরা ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল আগেই। এই ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণও চেয়েছিলেন অভিনেত্রী। এবার জানা গিয়েছে, বিএমসি কর্তৃপক্ষের কাছে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন কঙ্গনা।
প্রসঙ্গত, গত ৭ সেপ্টেম্বর বান্দ্রায় কঙ্গনার 'মণিকর্ণিকা ফিল্মস'-এর অফিসের একাংশ বেআইনি বলে নোটিস পাঠায় বৃহন্মুম্বই পুরসভা। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর অফিসের একাংশ ভাঙতে শুরু করেন পুরকর্মীরা। তখন কঙ্গনা আর্জিতে ভাঙচুরে স্থগিতাদেশ দেয় বম্বে হাইকোর্ট। কঙ্গনার দাবি, বিএমসি-র পুরকর্মীরা তাঁর অফিসের অন্তত ৪০ শতাংশ ভেঙে দিয়েছেন। অফিসের ভিতরের বিভিন্ন আসবাবপত্র, সোফা ও অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে এই ঘটনায়। গোটা ঘটনাই পূর্ব পরিকল্পিত বলেও দাবি করেছেন হিমাচল কন্যা। আপাতত এই ভাঙচুরের ঘটনায় বিএমসি কর্তৃপক্ষের কাছে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন কঙ্গনা।
বান্দ্রার অফিস ভাঙচুরের পর কঙ্গনার সন্দে দেখা করতে যান রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির জোটসঙ্গী রিপাব্লিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়ার নেতা রামদাস অঠওয়াল। তিনি জানান, বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের কর্মীরা কঙ্গনার অফিস ভাঙার ঘটনায় অভিনেত্রী খুব অপমানিত হয়েছেন। সেইসঙ্গে তাঁর অনেক ক্ষতিও হয়েছে। তাই ক্ষতিপূরণ চান কঙ্গনা। এই ঘটনায় তাঁর দল অভিনেত্রীর পাশে রয়েছে বলেও জানান রামদাস। তিনি আরও বলেন, “কঙ্গনা আমায় জানিয়েছেন, তিনি অপমানিত হয়েছেন। জানুয়ারি মাসে তৈরি করা তাঁর অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানতেন না যে বিল্ডার ২-৩ ইঞ্চি বেশি বানিয়েছেন। বিএমসির উচিত ছিল সেই অংশ ভাঙা। কিন্তু ওরা ভিতরের দেওয়াল ও আসবাব ভেঙে দিয়েছে। উনি এর বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছেন। ক্ষতিপূরণ চান উনি।”
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকে একাধিকবার বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অভিযোগ। মারাত্মক সব অভিযোগ এনে তোপ দেগেছেন বলিউডের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়। কঙ্গনার মানালি থেকে মুম্বই আসার পর বিতর্ক আরও বেড়েছে। কারণ কঙ্গনার রোষে পড়েছিল শিবসেনা। এমনকি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকেও রেয়াত করেননি তিনি। কটাক্ষ করে তাঁকে 'তু' বলেও সম্বোধন করেন কঙ্গনা। এছাড়াও কঙ্গনা রানাওয়াতের সঙ্গে শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রউতের বাকযুদ্ধও বেঁধেছিল কয়েক দিন আগে। কঙ্গনাকে 'হারামখোর' বলেন সঞ্জয়। অন্যদিকে আবার মুম্বইকে পাক অধিকৃত কাশ্মীর বলে মন্তব্য করেন কঙ্গনা। দু'পক্ষের এই বাকবিতণ্ডার জেরেই কঙ্গনার বান্দ্রার অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী।
কঙ্গনার অভিযোগ, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাঁর মন্তব্যে অসন্তুষ্ট। তারাই বিএমসিকে পরিচালনা করে। কঙ্গনার অভিযোগ, তাঁকে হেনস্থা করতেই নোটিস দেওয়া হয় গত ৭ সেপ্টেম্বর। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয় অভিনেত্রীকে। অথচ সেই সময় তিনি ছিলেন মানালিতে। যদিও অতিমারি করোনার মধ্যেও দু'দিন পরে মুম্বইয়ে চলে এসেছিলেন কঙ্গনা। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি।