দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের গোপন তথ্য পাচার করা হচ্ছে চিনে। এই অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন দিল্লির ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক রাজীব শর্মা। এই একই অভিযোগে আজ, শনিবার সকালে এক চিনা মহিলা কুইং শি এবং তাঁর নেপালি সঙ্গী শের সিংকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল। এই তিনজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ভারত থেকে বিভিন্ন ক্লাসিফায়েড তথ্য অর্থাৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, প্রয়োজনীয় এবং গোপন তথ্য তাঁরা চিনে পাচার করছিলেন। সাংবাদিক রাজীব শর্মা যে এই কাজে যুক্ত তা গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার রাতেই নিশ্চিত করেছিল পুলিশ। এবার ধৃতের তালিকায় জুড়েছেন আরও ২ জন।
ভারতে থেকে চিনের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে দিল্লির পীতমপুরার বাসিন্দা সাংবাদিক রাজীব শর্মার বিরুদ্ধে। অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট (ওএসএ)-এর আওতায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেলের ডেপুটি কমিশনার সঞ্জীব কুমার যাদব জানিয়েছে আজ সকালে চিনা মহিলা এবং নেপালের নাগরিককেও এই একই ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেলের তরফে জানানো হয়েছে চিনের ইন্টেলিজেন্স এঁদের ব্যবহার করত। সরাসরি সেখানেই তথ্য পাচার করতেন এই তিনজন। এই তিন অভিযুক্তের থেকে অসংখ্য মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। এইসব কিছু প্রমাণ স্বরূপ সংগ্রহ করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল। ডিসিপি যাদব জানিয়েছেন, আজ বিকেল সাড়ে তিনটের সময় এই কেসের বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করবে দিল্লি পুলিশ।
জানা গিয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছিল সাংবাদিক শর্মাকে। তবে তখন কেবল তাঁর ব্যাপারে তথ্য পাচারের অভিযোগ ছিল। যদিও গতকাল রাতে বিবৃতি দিয়ে দিল্লি পুলিশ নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে দেশের সুরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য চিনে পাচার করার ঘটনায় সক্রিয় ভাবেই জড়িত রয়েছেন রাজীব শর্মা। সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র সমেতই গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। এরপর তদন্ত করে দেখা গিয়েছে পুলিশের ধারনা একেবারেই সঠিক। স্পেশ্যাল সেলের তদন্তকারী আধিকারিকরা আরও জানিয়েছেন তদন্ত এগোলে যা যা তথ্য পুলিশের হাতে আসবে প্রয়োজন মতো তা প্রকাশ্যে জানানো হবে।
১৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারের পর ১৫ তারিখ দিল্লির একটি আদালতে পেশ করা হয় রাজীব শর্মাকে। তাঁকে ৬ দিন পুলিশ হেফাজতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ইতিমধ্যেই জামিনের আবেদন করেছেন দিল্লির এই সাংবাদিক। আগামী ২২ তারিখ সেই জামিনের আর্জি শুনবে আদালত।