দ্য ওয়াল ব্যুরো: কানপুর এনকাউন্টারের ৬ দিন পর অবশেষে গ্রেফতার হয়েছে গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে। মধ্যপ্রদেশে উজ্জয়ীনীতে মহাকাল মন্দির থেকে গ্রেফতার হয়েছে এই গ্যাংস্টার। জানা গিয়েছে, পুজোর সামগ্রী কিনে মন্দিরের পিছনের গেট দিয়ে প্রবেশের সময় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মন্দিরের নিরাপত্তারক্ষী এবং পুজোর সামগ্রী বিক্রেতা পুলিশকে বিকাশের মন্দিরে আসার ব্যাপারে খবর দিয়েছিল। সূত্রের খবর, ভিআইপি হিসেবে মহাকাল মন্দিরে প্রবেশ করেছিল বিকাশ।
জানা গিয়েছে আজ সন্ধ্যাতেই আদালতে তোলা হবে বিকাশ দুবেকে। সূত্রের খবর, মন্দির চত্বর থেকে জামাকাপড় এবং ছুরি সমেত বিকাশের ব্যাগও উদ্ধার করেছে পুলিশ। আর একটি সূত্রের খবর, মন্দিরের ভিতর তখন ভগবানের সামনে নমস্কার করছিল বিকাশ। সেই সময় তাকে পাকড়াও করে পুলিশ। সাদা-মেরুন স্ট্রাইপ টি-শার্ট পরা গ্যাংস্টারকে ঘাড় ধরে নিয়ে আসা হয় পুলিশের গাড়ির সামনে। তখনও তেজ কমেনি বিকাশের। চিৎকার করে বলে ওঠে 'আমি কানপুরের বিকাশ দুবে'। আর সহ্য হয়নি এক পুলিশকর্তার। কুখ্যাত গ্যাংস্টারের কপালে জোটে সটান থাপ্পড়।
কিন্তু বিকাশের গ্রেফতার নিয়ে বিভিন্ন মহলে উঠছে নানা প্রশ্ন। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ দাবি করেছিল যথেষ্ট আঁটোসাঁটো রয়েছে নিরাপত্তা। তাহলে কানপুর ছেড়ে চার রাজ্য পেরিয়ে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে বিকাশ কী ভাবে উজ্জয়ীনীতে পৌঁছল তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। পাশাপাশি যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তাঁরা এও বলেছেন যে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর অবিলম্বে গোটা ব্যাপারটা পরিষ্কার করে জানানো উচিত। ৮ জন পুলিশকর্মীকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মেরে ফেলার পরেও কী ভাবে এই গ্যাংস্টার নিজের রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে ছ'দিন ধরে বেপাত্তা রইলেন তাই নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রদেশে ঢোকার আগে বিকাশের শেষ লোকেশন ছিল রাজস্থানে কোটা। মোবাইলের কল রেকর্ড খতিয়ে এই তথ্য জানা গিয়েছে। পুলিশের অনুমান, কোটা পেরিয়ে গাড়িতে করেই দুই সঙ্গী বিট্টু এবং সুরেশকে নিয়ে মধ্যপ্রদেশে ঢোকে বিকাশ দুবে। সঙ্গে ছিল ভুয়ো পরিচয়পত্র যেখানে আবার বিকাশের পদবী ছিল 'পাল'। এমনটাই জানিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র। কী ভাবে বিকাশ কানপুর ছেড়ে চম্পট দিল এ ব্যাপারে এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এসটিএফের আধিকারিকরা।
এদিকে আজ সকালেই এনকাউন্টারে খতম হয়েছে বিকাশের দুই শাগরেদ। ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে আরও কয়েকজন। মারাও গিয়েছে কয়েকজন সঙ্গীসাথী। সব মিলিয়ে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছিল বিকাশ দুবে। অনেকেরই অনুমান, এনকাউন্টারে মারা যাওয়ার ভয়ও ছিল বিকাশের। তাই এ দিন হয়তো আত্মসমর্পণ করেছে সে।