দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্তত ৭১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলায়। গত ৪৫ দিনে একটি সরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে এই শিশুদের। স্বভাবতই প্রশ্নের মুখে পড়েছে যোগী সরকার।
সরকারি হাসপাতালের সুপারিন্টেডেন্ট ডি কে সিং স্বীকার করে নিয়েছেন শিশু মৃত্যুর ঘটনা। তিনি জানিয়েছেন, বহু শিশু ভর্তি হয়েছিল ওই হাসপাতালে। গত ৪৫ দিনে তাদের মধ্যে মারা গিয়েছে কমপক্ষে ৪৫ জন। তিনি আরও বলেন, আশেপাশের গ্রাম থেকে প্রচুর বাচ্চাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের পরিকাঠামো ততটাও উন্নত নয়। ডি কে সিং বলেন, "বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ৪৫০ রোগী। কিন্তু হাসপাতালে রয়েছে মাত্র ২০০টি বেড। সঠিক পরিকাঠামো না থাকার ফলে ডাক্তারদের উপর খুবই চাপ পড়ছে। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে যতজনকে সম্ভব বাঁচানোর চেষ্টা করছি।"
https://twitter.com/ANINewsUP/status/1042925547108671488
বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় ফিরে এসেছে গোরক্ষপুরের বিআরডি হাসপাতালের স্মৃতি। ২০১৭ সালে এই বিআরডি হাসপাতালেই অক্সিজেনের অভাবে মারা গিয়েছিল অন্তত ৬০টি শিশু। গোরক্ষপুরের এই ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। যদিও অক্সিজেনের অভাবের অভিযোগ অস্বীকার করেছিল বিআরডি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ। শিশু মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল এনসেফালাইটিসে আক্রান্ত হয়েই মারা গিয়েছিল ওই শিশুরা।
যদিও বি আর ডি হাসপাতালেরই ডাক্তার কাফিল খান চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন অক্সিজেনের অভাবেই মৃত্যু হয়েছিল শিশুদের। চিঠিতে কাফিল খান জানিয়েছিলেন, বেশ কিছু অক্সিজেন সিলিন্ডারের আয়োজন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। কাফিল খানের এই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ আনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে জেলও হয় তাঁর। কাফিল খানের জেল হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ অভিযোগ তোলেন, নিজের কেন্দ্র গোরক্ষপুরের হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ায় রুষ্ট হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ফলে ফাঁসানো হয়েছে কাফিলকে। এই বছরের এপ্রিলে হাইকোর্টে জামিনে মুক্তি পান কাফিল। কোর্ট বলে এখনও অবধি তাঁর বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কিছুদিন আগে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর ভাবে জখম হন কাফিল খানের ভাই কাশিফ জামিল। এই প্রসঙ্গে কাফিল বলেন, আমার ভাইকে গুলি করা হয়েছে। আমি জানতাম ওঁরা আমাদের মেরে ফেলার চেষ্টা করবে। তবে এই ওঁরা কারা সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি কাফিল খান।