দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তানকে রক্ষা করার জন্য মায়ের ঠিক কতদূর যেতে পারেন সেটা বোধহয় আন্দাজ করা কঠিন নয়। তবে এ বার দিল্লির এক মহিলা কেবল সন্তানকে অপহরণকারীদের থেকে রক্ষাই করেননি, বরং জানপ্রাণ লড়িয়ে তাদের পাকড়াও করার চেষ্টাও করেছেন। যদিও একটুর জন্য হাত ফস্কে গিয়েছে দুই অপহরণকারী, কিন্তু অপহরণের পিছনে থাকা মূলচক্রীর পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ।
এই ঘটনা পূর্ব দিল্লির শকরপুর এলাকার। বিকেল চারটে নাগাদ ওই এলাকার একটি বাড়ির সামনে স্কুটি নিয়ে পৌঁছয় দুই ব্যক্তি। বাচ্চাটির মায়ের কাছে জল চায় ওই দু'জনের মধ্যে একজন। মহিলা ঘরের ভিতরে জল আনতে গিয়ে চিৎকার শুনে বেরিয়ে এসে দেখেন তাঁর চার বছরের মেয়েকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে ওই দুই ব্যক্তি। আর কোনও না দিকে না তাকিয়ে ছুটে যান মহিলা। স্কুটি থেকে এক ঝটকায় টেনে নামিয়ে আনেন মেয়েকে। আর একহাত দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করেন স্কুটি আটকে রাখার। তবে ততক্ষণে মহিলার নাগাল থেকে বেরিয়ে পালাতে শুরু করে ওই দুই অপহরণকারী।
https://twitter.com/i/status/1285808586367463425
এদিকে চিৎকারে ততক্ষণে ছুটে এসেছেন মহিলার এক প্রতিবেশী। স্কুটির পিছনে ধাওয়া করেন তিনি। অন্যদিকে গলির আর এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন অন্য এক বাসিন্দা। তিনি নিজের মোটরবাইক রাস্তার মাঝখানে রেখে দুই অপহরণকারীকে আটকানোর চেষ্টা করেন। তাঁর কাছাকাছি ওই দু'জন স্কুটি নিয়ে পৌঁছতেই সজোরে ধাক্কা মেরে তাদের মাটিতে ফেলে দেন ওই যুবক। তবে ওই দুই যুবককে ধাওয়া করা হলেও একটুর জন্য তারা পালিয়ে যেতে পেরেছে। তবে ফেলে রেখে যায় নিজেদের স্কুটি এবং একটি ব্যাগ। এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়েছে গোটা ঘটনা। ইতিমধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এর মধ্যে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় পুলিশ। ওই ব্যাগ থেকে বন্দুক এবং গুলি উদ্ধার করে তারা। স্কুটির নম্বর প্লেট দেখে মালিকের ঠিকানায় পৌঁছে যায় পুলিশ। জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার পরিকল্পনা করেছিল আদতে বাচ্চাটির কাকা। বাচ্চাটির বাবা সফল ব্যবসায়ী। রমরমিয়ে চলে তাঁর কাপড়ের দোকান। এতেই হিংসা তাঁর ভাইয়ের। তাই ভাইঝিকে অপহরণ করে মোটা টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ছক কষে সে। পুলিশের দাবি, স্কুটির মালিক জেরায় তাদের জানিয়েছে বাচ্চাটির কাকা তাকে এক লক্ষ টাকা দেবে বলেছিল। আর ভাইঝিকে অপহরণ করে ৩৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ছিল তার।
দুই অপহরণকারী এবং বাচ্চাটির কাকা আপাতত ফেরার। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।