দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন কয়েক আগেই দিল্লিতে বছর তিনেকের এক শিশু স্কুল থেকে ফেরার পর বাড়ির লোকেরা তার জামায় রক্তের দাগ দেখতে পান। কিন্তু স্কুল এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছিল স্কুল চত্বরে এই ধরণের ঘটনা কিছু হয়নি।
সত্যি কি তাই?
সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ সামনে এনেছে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য৷ পুলিশের সমীক্ষা অনুযায়ী যৌন নির্যাতন বা শিশু নির্যাতনের যেসব ঘটনা ঘটছে, তার ৬০ শতাংশই স্কুল চত্বরে বা স্কুলের মধ্যে ঘটছে৷ দিল্লি পুলিশ কমিশনার অমূল্য পট্টনায়েক এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা জারি করেছেন দিল্লির প্রতিটি থানায়৷ সতর্ক করা হয়েছে অফিসারদের৷ অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
দিল্লি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷ আইনী পদক্ষেপও নেওয়া হবে দ্রুত৷ যদি স্কুলের কোনও কর্মী এই ধরণের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে স্কুলের বিরুদ্ধেও৷ কমিশনার জানান, দিল্লির মাত্র ৩০ শতাংশ স্কুলের কর্মীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন করা রয়েছে৷ ফলে সমস্যা জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দিল্লি পুলিশ৷
দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র জানান, এখন অনলাইনে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ দিল্লি পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য দিলেই পুলিশ ভেরিকেশন করা যাবে বলে জানানো হয়েছে৷ প্রত্যেক কর্মীর তথ্য পৃথক পৃথক ভাবে দিল্লি পুলিশের কাছে দিলেই পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য নাম নথিভুক্ত হয়ে যাবে৷
নোবেল জয়ী কৈলাশ সত্যার্থীর 'চিলড্রেন ফাউন্ডেশনে'র সমীক্ষা অনুযায়ী গত তিন বছরে ৩৪ শতাংশ শিশু নির্যাতনের সংখ্যা বেড়েছে৷ কিন্তু পুলিশ কর্মী বা অপরাধী শনাক্ত করার সংখ্যা বাড়েনি৷ ফলে খুব সহজেই ছাড় পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা৷ এতে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে৷
জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের মতে ৫-৯ বছরের মধ্যে প্রতি পাঁচটি শিশুকন্যার মধ্যে একজন নির্যাতনের স্বীকার৷ ২০১৭ সালে প্রায় ৫৩ শতাংশ অভিযোগ জমা পড়েছিল শিশু যৌন নির্যাতনের৷ এই সব সমীক্ষার ফল আশঙ্কা বাড়াচ্ছে৷ প্রশ্ন তুলছে৷ সত্যি কি নিরাপদ দেশের ভবিষ্যৎ?