দ্য ওয়াল ব্যুরো: বচসার জেরে নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকে সহকর্মীকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির সীমাপুরী থানায়। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আক্রান্ত পুলিশকর্মী। শুক্রবার রাতে সাড়ে দশটা নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম রবীন্দ্র নাগর। এবং আক্রান্ত পুলিশকর্মী আমোদ ভাদানা। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় (খুনের চেষ্টা) মামলা রুজু হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার থানায় বসে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন আমোদ। সেই সময় আচমকাই রবীন্দ্রর সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। নিমেষেই পরিস্থিতির পারদ ওঠে চরমে। সার্ভিস রিভলভার আমোদের দিকে তাক করে গুলি চালিয়ে দেন রবীন্দ্র। বুকে গুলি লাগে আমোদের। গুরুতর জখম অবস্থায় রক্তাক্ত আমোদকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় স্বামী দয়ানন্দ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে রেফার করা হয় এইমসে। আপাতত এইমসের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর অস্ত্রোপচারও হয়েছে। তবে এখন বিপদ কাটেনি বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তবে কী কারণে অভিযুক্ত কনস্টেবল রবীন্দ্র এমন করেছেন সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি এখনও। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় কিছু জানাননি অভিযুক্ত কনস্টেবল। আপাতত আহত পুলিশকর্মীর সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে। তবে ঘটনার দিন থানায় থাকা পুলিশকর্মীরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরেই মনমরা ছিলেন রবীন্দ্র। তাঁকে একটি দায়িত্ব দিয়ে অব্যাহতি দিয়ে সেই জায়গায় আমোদকে বসিয়েছিলেন উপরমহলের অফিসাররা। এই ব্যাপারটা নিয়ে মোটেই খুশি ছিলেন না রবীন্দ্র। অনুমান এসব নিয়েই শুক্রবার রাতে দু'জনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। মাথা গরম করে ঝোঁকের বশেই রবীন্দ্র গুলি চালিয়ে বসেন বলে মনে করেছেন আধিকারিকদের অনেকে।
এর আগে কাজের সূত্রে থানার বাইরে একটি চায়ের দোকানেও রবীন্দ্র এবং আমোদের ঝামেলা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন থানার অনেকে। সেদিন কেন এমন কাণ্ড ঘটালেন তা জানতে রবীন্দ্রকে ম্যারাথন জেরা করছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ঘটনার দিন থানায় উপস্থিত থাকা বাকি পুলিশকর্মীদেরও।