দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবসাগরের গভীর নিম্নচাপ অবশেষে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আইএমডি জানিয়েছে আগামী ১২ ঘণ্টায় আরও শক্তিশালী হয়ে সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম বা অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে এই সাইক্লোনিক স্টর্ম। বাংলাদেশের নামকরণ করা এই ঘূর্ণিঝড় আগামীকাল অর্থাৎ ৩ জুন আছড়ে পড়বে মুম্বই এবং গুজরাতে। মূলত উত্তর মুম্বই এবং দক্ষিণ গুজরাত উপকূলে আছড়ে পড়ার কথা নিসর্গ-এর।
আইএমডি-র পূর্বাভাস ছিল যে ২ জুন মঙ্গলবার বিকেলে সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আরবসাগরের ডিপ ডিপ্রেশন সাইক্লোনে পরিণত হবে। তবে নির্ধারিত কিছুটা সময় আগেই দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব-মধ্য আরবসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে সাইক্লোনিক স্টর্মে পরিণত হয়েছে।
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস ৩ জুন বিকেলের দিকে মুম্বই থেকে ৯৪ কিলোমিটার দক্ষিণে আলিবাগের কাছে ল্যান্ডফল হবে সিভিয়ার সুপারসাইক্লোনিক স্টর্ম নিসর্গ-র। ল্যান্ডফল সময় হাওয়ার গতিবেগ হতে পারে সর্বোচ্চ ১২৫ কিলোমিটার/ঘণ্টা।
মূলত মহারাষ্ট্রের নিম্ন উপকূলীয় এলাকাগুলোয় বৃষ্টিপাত হবে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের প্রভাবে। ইতিমধ্যেই রেড অ্যালার্ট জারি হয়েছে মুম্বই, থানে, রায়গড়, পালঘর, সিন্ধুদূর্গ, রত্নগিরি জেলায়। আগামী দু'দিন এইসব জেলায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঝড়ের দাপটে ভাঙতে পারে গাছ। বিদ্যুতের খুঁটি উপরে বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। নিম্ন উপকূলীয় এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মূলত উত্তর মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার হরিহরেশ্বর এবং দক্ষিণ গুজরাত উপকূল সংলগ্ন দমনের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাবে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ। বাংলাদেশের নামকরণ করা এই ঘূর্ণিঝড় প্রথমে উত্তরমুখী হয়ে এগোবে। তারপর এবার উত্তর-পূর্বে বাঁক নিয়ে অগ্রসর হবে এবং ৩ জুন আছড়ে পড়বে।সতর্কতার খাতিরে মৎস্যজীবীদের জুনের ৪ তারিখ পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব-মধ্য আরবসাগর, গোয়া-কর্নাটক উপকূল এবং কেরল উপকূলে যেতে বারণ করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্র এবং গুজরাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে এনডিআরএফ-এর মোট ৩১টি টিম পাঠানো হয়েছে। প্রতি দলে থাকবেন ৪৫ জন। এনডিআরএফ-এর চিফ এসএন প্রধান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তাঁদের টিম প্রস্তুত। যেসব এলাকায় বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা সেখান থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।