দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে জঙ্গি হানা। শহিদ হয়েছেন এক সিআরপিএফ জওয়ান। মৃত্যু হয়েছে এক পাঁচ বছরের শিশুর।
জানা গিয়েছে, অনন্তনাগের বিজবেহরা এলাকায় হাইওয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল সিআরপিএফের একটি বাহিনী। তাদেরকেই নিশানা বানায় মোটরসাইকেলে চড়ে আসা জঙ্গিরা। এদিন বেলা বারোটা নাগাদ হাইওয়ের উপর পেট্রোলিং করছিল নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআরপিএফের ৯০ নম্বর ব্যাটেলিয়ন। আচমকাই হামলা চালায় জঙ্গিরা। গুলি লাগে এক জওয়ান এবং ওই শিশুর। গুরুতর আহত অবস্থায় দু'জনকেই বিজবেহরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
এখনও পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনও জঙ্গি সংগঠন। কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত তা জানতে এলাকায় চলছে কড়া নজরদারি। সেনার টহলদারির পাশাপাশি হামলার পর পলাতক জঙ্গিদের খোঁজে জারি রয়েছে তল্লাশি অভিযান। ক'জন জঙ্গি হামলা চালিয়েছে, তাদের পরিচয়ই বা কী-----এসব ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি।
অন্যদিকে আজ সকালেই দক্ষিণ কাশ্মীরের ত্রালে এনকাউন্টারে খতম হয়েছে তিনজন জঙ্গি। তার পরপরই এই হামলা হয়েছে অনন্তনাগে। দুটো ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত। ত্রালের এনকাউন্টারের বদলা নিতেই সিআরপিএফের উপর হামলা হয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল দক্ষিণ কাশ্মীরের ত্রালে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চলে অভিযান। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ, সেনাবাহিনীর ৪২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস-এর যৌথ অভিযানের শেষে খতম হয়েছে তিনজন জঙ্গি। নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে আহত হয়েছেন দু'জন সেনা জওয়ানও।
জানা গিয়েছে, নিহত তিন জঙ্গি ত্রাল এলাকারই বাসিন্দা। অস্ত্রশস্ত্র আদানপ্রদানে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে সাহায্য করতে তারা। তারপর সরাসরি যোগ দেয় জঙ্গি সংগঠনে। ওই এলাকায় আর কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কিনা তা জানতে ত্রালের চিউহা উলার এলাকায় জারি রয়েছে তল্লাশি অভিযান। সেনার তরফে জানানো হয়েছে জুন মাসে এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ কাশ্মীরে ১২টি এনকাউন্টার হয়েছে। খতম হয়েছে ৩৩ জন জঙ্গি।
উপত্যকার পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি ঢোকাতে চাইছে পাকিস্তান। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিজি দিলবাগ সিংয়ের কথায় গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুসারে পুঞ্চ এবং রাজৌরি সেক্টর দিয়ে উপত্যকায় জঙ্গি ঢোকাতে চাইছে হিজবুল, জইশ এবং লস্করের মতো জঙ্গি সংগঠন। এ কাজে পাকিস্তান সরাসরি তাদের সাহায্য করছে বলেও দাবি করেছেন দিলবাগ সিং। মূলত নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলা চালানোর এদের পরিকল্পনা।
দিলবাগ সিং এই কথা জানানো পর থেকেই নতুন করে অশান্ত হয়েছে উপত্যকা। হামলায় হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনীর উপরেও।