রাজ্য সম্মেলন হবে তো ত্রিপুরায়? ঘোর সংশয়ে সিপিএম
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানিক সরকারের রাজ্যে ঘোর সঙ্কটে সিপিএম। রাজ্য সম্মেলনের নির্ঘণ্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আদৌ রাজ্য সম্মেলন হবে কি না, হলে কোথায় হবে তা নিয়ে সঠিক কোনও উত্তরই দিতে পারছেন না সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
প্রসঙ্গত, ত্রিপুরা
শেষ আপডেট: 7 November 2018 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানিক সরকারের রাজ্যে ঘোর সঙ্কটে সিপিএম। রাজ্য সম্মেলনের নির্ঘণ্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আদৌ রাজ্য সম্মেলন হবে কি না, হলে কোথায় হবে তা নিয়ে সঠিক কোনও উত্তরই দিতে পারছেন না সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
প্রসঙ্গত, ত্রিপুরা বাদে সব রাজ্যের সম্মেলন শেষ করেই গত এপ্রিলে হায়দরাবাদে সিপিএমের পার্টি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একে গোপালন ভবন ভোটের জন্য ছাড় দিয়েছিল ত্রিপুরা রাজ্য কমিটিকে। কেন্দ্রীয় কমিটির তরফে ত্রিপুরা রাজ্য কমিটিকে বলা হয়েছিল, বিধানসভা ভোটের পর রাজ্য সম্মেলন করতে। কিন্তু ভোটের পর কেটে গিয়েছে আট মাস। শাখা, লোকাল, মহকুমা এবং জেলা স্তরের সম্মেলন করলেও রাজ্য সম্মেলন সংগঠিত করতে পারছে না সিপিএম।
আগামী ১৮ তারিখ জরুরি রাজ্য কমিটির বৈঠক ডেকেছে সিপিএমের ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি। উপস্থিত থাকার কথা দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি-সহ একাধিক পলিটব্যুরোর সদস্যের। যেতে পারেন সূর্যকান্ত মিশ্র এবং বিমান বসুও। ওই বৈঠকেই হয়তো চূড়ান্ত হবে দিনক্ষণ। কিন্তু ত্রিপুরার নেতাদের এখন চিন্তা কোথায় হবে সম্মেলন।
সিপিএম নেতাদের অভিযোগ, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বাম কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বিজেপি এবং আরএসএস-এর হাতে। প্রকাশ্যে করা যাচ্ছে না রাজনৈতিক কর্মসূচি। যদিও বিজেপি নেতারা সিপিএমের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিপ্লব দেবের সরকার যে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছে তা দেখে মানুষই সিপিএমের পাশ থেকে ক্রমশ সরে আসছে। শাখা থেকে জেলা পর্যন্ত সমস্ত স্তরেই এ বার সিপিএম সম্মেলন সেরেছে গোপনে। আটটি জেলার সম্মেলনই অনুষ্ঠিত হয়েছে আগরতলার রাজ্য দফতরে। কোনও স্তরেই সম্মেলনের আগে বা পরে প্রকাশ্য সমাবেশ করতে পারেনি সিপিএম।
আরও পড়ুন- কর্নাটক বিজেপি-র কাছে ফের ধাক্কা, পঞ্জি কেলেঙ্কারিতে ডাক সুষমা স্বরাজের ‘ভাই’ জনার্দন রেড্ডিকে
এই পরিস্থিতিতে একবার আলোচনা ওঠে, ত্রিপুরার রাজ্য সম্মেলন বাংলায় অনুষ্ঠিত করার। সিপিএম সূত্রের খবর, এতে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি আলিমুদ্দিনের নেতারা। বঙ্গ সিপিএমের তরফে বলা হয়, ত্রিপুরার রাজ্য সম্মেলন যদি বাংলায় অনুষ্ঠিত হয় তাহলে দুটি ঘটনা ঘটবে। এক, ত্রিপুরায় বিজেপি ফাঁকা জমি পেয়ে যাবে। এবং দুই, বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র হত্যার যে অভিযোগ তুলে আসছে দল, তা খারিজ হয়ে যাবে। বাইরের কোনও রাজ্য সম্মেলন বাংলায় অনুষ্ঠিত হলে তৃণমূলও বলার সুযোগ পেয়ে যাবে ‘গণতন্ত্রের এর থেকে ভাল মডেল আর কী হয়!” সিপিএমের ত্রিপুরার এক মুখপাত্র বলেন, “বড় সমাবেশ না করলেও, রাজ্য দফতরেই রাজ্য সম্মেলন করার চিন্তা ভাবনা শুরু হয়েছে। কিন্তু তা কবে হবে সে বিষয়ে এক্ষুনি কিছু বলা যাচ্ছে না।”
ত্রিপুরার রাজ্য সম্পাদক কে হবেন তা নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। সিপিএমের নিয়মানুযায়ী তিন বারের বেশি একই স্তরে কেউ সম্পাদক হিসেবে থাকতে পারবেন না। যে কারণে ২০১৫ সালে সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়ে দিতে হয়েছিল প্রকাশ কারাটকে। ত্রিপুরার রাজ্য সম্পাদক বিজন ধর তিনটি টার্ম কাটিয়ে ফেলেছেন। তিনি আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার। সিপিএম সূত্রের খবর, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কমিটি চাইছে না রাজ্য সম্পাদকের পদে বদল আনতে। সেক্ষেত্রে পলিটব্যুরোর বিশেষ অনুমতি নিয়ে বিজন ধরকেই সম্পাদক পদে রেখে দিতে পারে সিপিএম। আর একান্তই যদি বিজনবাবুকে রাজি করানো না যায় তাহলে হয়তো মানিক সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে সংগঠনের হাল ধরার।