দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে #মি টু প্রসঙ্গে মুখ খুললেন নন্দিতা রায়।
সম্প্রতি তাঁর বাবার বিরুদ্ধে উঠেছে যৌন হেনস্থার অভিযোগ। একটি পেপার-মার্কেটিং কোম্পানির কো-ফাউন্ডার নিশা ভোরা অভিযোগ তুলেছেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী যতীন দাসের বিরুদ্ধে। বাবার বিরুদ্ধে এ হেন বিস্ফোরক অভিযোগ ওঠার পরেও চুপ ছিলেন নন্দিতা। অবশেষে মুখ খুললেন তিনি। জানালেন, সমর্থন করবেন #মি টু মুভমেন্টকে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশে দাঁড়াবেন সেই সব মহিলার যাঁরা যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন।
নিজের সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে নন্দিতা জানিয়েছেন, বাবার বিরুদ্ধে বিরক্তিকর কিছু অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তাও তিনি #মি টু মুভমেন্টকে সমর্থন করা ছাড়বেন না। তবে যাঁরা হেনস্থার অভিযোহ আনছেন তাঁদের জন্য একটা সতর্কবার্তাও দিয়েছেন এই পরিচালক। নন্দিতা বলেছেন, কারর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার আগে মহিলারা যেন একটু কনফার্ম হয়ে নেন। নন্দিতা আরও বলেন, "আমি প্রথম থেকেই এই প্রসঙ্গে বলে এসেছি এ বার আমাদের শোনার পালা এসেছে। প্রকাশ্যে সবটা বলতে পারলে মহিলারাও খানিকটা স্বস্তি পাবেন। কিন্তু এইসবের পাশপাশি মাথায় রাখতে হবে অভিযোগগুলো যেন সত্যি হয়।"
প্রসঙ্গত, নিশা ভোরা নামের এক মহিলা জানিয়েছেন ১৪ বছর আগে তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছেন যতীন দাস। টুইটারে নিশা লিখেছেন, ২০০৮ সালে তাঁর সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছে। নিশা জানিয়েছেন, তাঁর শ্বশুর একটি ডিনার পার্টির আয়োজন করেছিলেন। সেখানেই হাজির ছিলেন যতীন দাস। তিনি নিশাকে প্রস্তাব দেন তাঁর অ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে কাজ করার জন্য। এরপর যতীনের খিড়কি ভিলেজ স্টুডিওতে কাজ করতে যান নিশা। অভিযোগ সেখানেই তাঁকে হেনস্থার শিকার হতে হয়। নিশা অভিযোগ করেছেন, তাঁকে জোর করে জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিলেন যতীন। কোনওমতে স্টুডিও থেকে পালিয়ে আসেন নিশা।
যতীন দাসের মেয়ে বিখ্যাত পরিচালক নন্দিতা দাসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানিয়েছেন নিশা। তিনি বলেন, এই ঘটনার একদিন পরেই তাঁকে ফোন করেছিলেন নন্দিতা। বাবার জন্য নিশার মতোই একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট তিনি খুঁজে দিতে বলেছিলেন তিনি।
যদিও গোটা ঘটনাই অস্বীকার করেছেন চিত্রশিল্পী যতীন দাস। তিনি বলেন, “কোনওদিন ওই মহিলার সঙ্গে দেখাই হয়নি। ওনাকে চিনি না।” এর পাশাপাশি যতীন বলেছেন, যাঁর তাঁর বিরুদ্ধে বিকৃত অভিযোগ তোলাটা এখন একটা অদ্ভুত মজার খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে।