দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মাঝেই জন্ম নিয়েছে যমজ সন্তান। তাই বাবা-মা তাঁদের সদ্যোজাত ছেলে-মেয়ের নাম রেখেছেন করোনা আর কোভিড। এই ঘটনা ছত্তীসগড়ের।
দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছে নোভেল করোনাভাইরাস। আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। সংক্রমণ রুখতে দেশে তিন সপ্তাহের জন্য জারি হয়েছে লকডাউন। এর মধ্যেই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন রায়পুরের প্রীতি ভার্মা। অনেক বাধাবিপত্তি এবং সমস্যা পেরিয়ে যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। এক ছেলে ও এক মেয়ে হয়েছে তাঁর।
প্রীতি জানিয়েছেন, গত ২৬ মার্চ মধ্যরাতে তাঁর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। কোনওমতে একটা অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করে প্রীতিকে নিয়ে হাসপাতালে যান তাঁর স্বামী। দু’জনেই ভেবেছিলেন হয়তো হাসপাতালে গিয়ে সঠিক সময়ে ডাক্তারদের পাওয়া যাবে না। তবে হাসপাতালে পৌঁছনোর পরেই একটুও সময় নষ্ট না করে প্রীতির ডেলিভারির ব্যবস্থা করেন ডাক্তাররা। যমজ সন্তানের জন্ম দেন তিনি।
এরপর থেকে হাসপাতালের সবার মুখেই দুই নবজাতকের কথা শোনা যাচ্ছিল। কোভিড আর করোনা নামেই সদ্যোজাতদের ডেকেও দিয়েছিলেন কয়েকজন। ইতিমধ্যেই প্রীতি এবং তাঁর স্বামীও ঠিক করেন যে সন্তানদের এই নামই রাখবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। ছেলের নাম কোভিড আর মেয়ের নাম করোনা রেখেছেন তাঁরা। তবে পরবর্তী সময়ে নাম বদল করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন এই দম্পতি।
প্রীতি এবং তাঁর স্বামী জানিয়েছেন, তাঁরা ভেবেছিলেন লকডাউনের মাঝে ডেলিভারি হতে প্রচুর সমস্যা হবে। কিন্তু রাস্তাঘাটে পুলিশ তাঁদের আটকালেও অবস্থার গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই ছেড়েও দিয়েছিল। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও হাসপাতালে নার্স-ডাক্তার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রীতি এবং তাঁর সন্তানদের যথেষ্টই খেয়ালও রেখেছিলেন। মধ্যরাতে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছনোর পরেই শুরু হয় ডেলিভারি। ততক্ষণে ঘড়ির কাঁটা ১২টার ঘর পেরিয়েছে। শুরু হয়ে গিয়েছে নতুন দিন। ২৭ মার্চ যমজ সন্তানের জন্ম দেন প্রীতি।
তারপর মা-বাবা আর হাসপাতালে সকলের ইচ্ছেতেই দুই সদ্যোজাতর নাম রাখা হয় করোনা আর কোভিড।