দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হলো পাঁচটি চিতাবাঘের ছানাকে। নৃশংস এই ঘটনায় শিউরে উঠেছেন দেশবাসী। খাবারের খোঁজে অনেকসময়েই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে চিতাবাঘ। মাঝে মাঝে তাদের পিটিয়ে মেরে ফেলার খবরও জানা যায়। তবে জানা গিয়েছে এই চিতাবাঘের শাবকগুলি কোনও লোকালয়ে ঢুকে পড়েনি। বরং আখের খেতের বর্জ্য পোড়াতে গিয়ে অজান্তেই নাকি এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন কর্মীরা।
মহারাষ্ট্রের পুনেতে আওসারি গ্রামে ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। ওই গ্রামের একটি চিনিকলের কর্মীদের হাতেই জ্যান্ত পুড়ে মারা গিয়েছে কমপক্ষে পাঁচটি চিতাবাঘের শাবক। যদিও কারখানার কর্মীদের দাবি, তারা কেবল আখের খেতের বর্জ্য পোড়াচ্ছিলেন। কিন্তু ওই আবর্জনার মধ্যে যে এতগুলো চিতাবাঘের ছানা ছিল তা নাকি জানতেন না কেউই। এক কর্মীর কথায়, তাঁরা ফসল কাটতে এসেছিলেন। সেই সময় জমির মালিক তাঁদের নির্দেশ দেন জমির বাড়তি আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলতে। তারপর জঞ্জালের স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেন ওই কর্মীরা। এরপরেই এক মহিলার নজরে আসে চিতাবাঘের ছানাগুলি। তিনিই প্রথম সতর্ক করেন বাকিদের।
তবে অসাবধানতায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে দায় এড়ালেও, ওই চিনিকলের কর্মী এবং মালিকের উপর বেজায় চটেছেন পশুপ্রেমীরা। তাদের কড়া শাস্তির দাবিও তুলেছেন পরিবেশবিদ এবং পশুপ্রেমীরা। বেখেয়ালে কী ভাবে এতগুলো চিতাবাঘের ছানাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরে ফেললেন ওই কর্মীরা তাই নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই বলছেন, চিতাবাঘের ছানাগুলো ঘুমিয়ে থাকলেও জঞ্জালের স্তূপ নড়াচড়া হলেই তো বাচ্চাগুলোও জেগে উঠবে। ভালোভাবে আবর্জনার স্তূপ না দেখেই কী ভাবে চিনিকলের কর্মীরা তাতে আগুন ধরিয়ে দিলেন তাই নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
চলতি বছরের মার্চ মাসে এই একই এলাকায় আখের খেত থেকে উদ্ধার হয়েছিল দুটো চিতাবাঘের ছানা। সেই সময়েও বদগাঁও আনন্দ গ্রামের চাষিরা ফসল কাটার সময় অসাবধানতায় ট্রাক্টরে পিষে ফেলেছিল একটি চিতাবাঘের ছানাকে।