
শেষ আপডেট: 24 July 2020 14:48
তবে মোগলির খোঁজ পাওয়া না গেলেও হদিশ মিলেছে ভয়ঙ্কর সুন্দর ব্ল্যাক প্যান্থারের সুন্দরী প্রেমিকার। মেয়ে চিতাটির নাম ক্লিওপেট্রা। মিশরের রানির মতোই রূপের জৌলুস তার। মসৃণ গা, তীক্ষ্ণ নজরে প্রেমিক সায়ার আদর্শ সঙ্গিনী সে। কিছুদিন আগে ভ্রমণে বেরিয়েছিল এই ব্যাঘ্র যুগল। তখন রয়্যাল জুটির রাজকীয় সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন বিখ্যাত ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার মিঠুন (এইচ)।
বেঙ্গালুরুর বছর ৩১-এর মিঠুন জানিয়েছেন, চার বছর ধরে একসঙ্গে রয়েছে সায়া আর ক্লিওপেট্রা। ২০১৬ সালে ক্লিওপেট্রার সঙ্গে আলাপ হয় সায়ার। ক্লিওপেট্রা অবশ্য তার অনেক আগে থেকেই কাবিনির স্থায়ী বাসিন্দা। মিঠুন জানিয়েছেন, সাধারণত চিতা দম্পতির ক্ষেত্রে পুরুষ চিতাই তার সঙ্গিনীকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারেই উল্টো। ক্লিওপেট্রা রানির মতো আগে চলে। পিছনে পাহারা দিয়ে এগিয়ে চলে কালোচিতা সায়া।
মিঠুন জানিয়েছেন, গত বছর শীতকালে কাবিনিতে এই যুগলকে লেন্সবন্দি করেছিলেন তিনি। টানা ৬ দিন অপেক্ষা করার পর দর্শন দিয়েছিল ক্লিওপেট্রা এবং সায়া। মিঠুনের কথায়, "যে জায়গায় আমি অপেক্ষা করতাম সেখান থেকে ১০০ মিটার দূরে সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছিল ওরা। আমি ওদের গর্জন শুনতে পেতাম। হরিণের আর্তনাদ শুনে একদিন বুঝেছিলাম বড়সড় শিকার হয়েছে। চিতাদের নিয়ম বড় শিকার করলে সেটা শেষ না হওয়া অবধি জায়গা ছেড়ে নড়বে না। তাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছিলাম।"
https://www.instagram.com/p/CCgSB8tprRZ/?igshid=kdz0dhhsnbbo
তবে অপেক্ষা করা সার্থক হয়েছিল। মিঠুন জানিয়েছেন, এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ফ্রেমবন্দি করার জন্য ৬ দিন কেন, ছ'বছরও অপেক্ষা করতে পারেন তিনি। মিঠুন বলেছেন, "ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফারদের ভীষণ ধৈর্যশীল হতে হয়। অসীম আগ্রহে অপেক্ষা করতে হয় একটা চোখ ধাঁধানো ওয়াও মোমেন্ট ক্যাপচার করার জন্য। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ওরা যখন দেখা দেয় সেই মুহূর্তটা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। এই যেমন ক্লিওপেট্রা আর সায়া যখন আমার লেন্সের দিকে তাকিয়েছিল, সেটা অবিস্মরণীয়।"