দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠেলায় পড়লে কত কিছুই না হয়! উনিশের ভোটে বিহারে এনডিএ-এর আসন সমঝোতা ঘোষণা হতে এই কথাটাই বলছেন অনেকে। রবিবার, নীতীশ কুমার আর সপুত্র রামবিলাস পাসোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। ঠিক করে নেন কে কত আসনে লড়বেন সামনের লোকসভায়।
সাংবাদিক বৈঠকে এক পাশে নীতীশ এবং এক পাশে রামবিলাসকে দাঁড় করিয়ে অমিত শাহ বলেন, বিহারে ৪০টি আসনের মধ্যে বিজেপি এবং নীতীশ কুমারের দল ১৭টি করে আসনে লড়বে। বাকি ছ’টি আসনে লড়বে রামবিলাসের দল। তবে কে কোন আসনে লড়বে, তা রাজ্য নেতারা পরবর্তী সময়ে বসে আলোচনা করে নেবে বলে জানান অমিত শাহ।
প্রসঙ্গত, চোদ্দর লোকসভায় বিহারে বিজেপি-র জেতা আসন ছিল ২২টি। অন্য দিকে জেডিইউ জিতেছিল মাত্র দুটি আসন। কিন্তু তারপর কোশী, গণ্ডক দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। বিজেপি-বিরোধী প্রচার তুঙ্গে তুলে, লালুপ্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-র সঙ্গে জোট করে মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ। পরে আবার সেই জোট ভেঙেও যায়। ‘ডিগবাজি’ খান প্রাক্তন রেলমন্ত্রী। এখন বিজেপি-র সমর্থনেই বিহারের সরকার চালাচ্ছেন নীতীশ কুমার। তবে ২২টি আসনে জেতা রাজ্যে শরিক দলকে আসন ছেড়ে দেওয়ার পিছনে চাপ দেখছে রাজনৈতিক মহল। হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে সবে সবে মসনদ খুইয়েছে গেরুয়া শিবির। তাই উনিশের ভোটের আগে শরিকদের তুষ্ট করেই বিজেপি এগোতে চাইছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকে।
গোটা দেশ যখন সিবিআই গৃহযুদ্ধে উত্তাল, কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা যখন তুলোধনা করছে কেন্দ্রের শাসক দলকে, নয়া দিল্লির লোধি রোডে সিবিআই সদর দফতরের দোরগোড়া থেকে যখন কংগ্রেসীরা স্লোগান তুলছে, ‘নরেন্দ্র মোদী চোর হ্যায়’, তখন দিল্লিতেই গত ২৬ অক্টোবর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে একপ্রস্থ বৈঠক সেরে ফেলেছিলেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল বিজেপি এবং নীতীশের দল আসন ভাগাভাগিতে সমান সমান আসন নেবে। বাকি আসন দেওয়া হবে অন্য শরিকদের। তখন যদিও উপেন্দ্র কুশহওয়া এনডিএ-তে ছিলেন। কিন্তু দু’দিন আগেই মোদী-শাহদের শিবির ছেড়েছেন তিনি। জল্পনা তৈরি হয়েছিল ‘হাওয়া মোরগ’ রামবিলাস কী করবেন তা নিয়েও। যদিও এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রামবিলাস। এ দিনের বৈঠক শেষেও অমিত শাহ বলেন, উনিশে মোদীর নেতৃত্বেই ফের সরকার গঠন করবে এনডিএ।