দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাংসের দোকানে গিয়েছিলেন বছর তিরিশের এক যুবক। দোকানদারের নজর এড়িয়ে তুলে নেন ধারালো মাংস কাটার ছুরি। তারপরই ছুরি উঁচিয়ে বেরিয়ে পড়েন রাস্তায়। সামনে যাকে পেয়েছিলেন তার উপরেই হামলা করেছিলেন যুবক। এলোপাথাড়ি কোপ বসাতে শুরু করেন পথচলতি সাধারণ মানুষের উপর। গতকাল অর্থাৎ রবিবার এই ঘটনা ঘটেছে বেঙ্গালুরুতে। ওই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে তার নাম গণেশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল সকালে কট্টনপেট এলাকার একটি মাংসের দোকানে গিয়েছিলেন গণেশ। মাংসের অর্ডার দেওয়ার ফাঁকে দোকানির অন্যমস্কতার সুযোগ নিয়ে চুরি করে নেন একটি ধারালো ছুরি। তারপর সেটা নিয়েই নেমে পড়েন রাস্তায়। ছুরির কোপে মৃত্যু হয়েছে পথচলতি এক ব্যক্তির। গুরুতর ভাবে জখম হয়েছেন আরও ৬ জন। প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে গণেশকে ছুরি উঁচিয়ে সকলকে তাড়া করতে দেখা ভয়ে-আতঙ্কে যে যেদিকে পারেন ছুটে পালান। এই পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রেখে প্রত্যক্ষদর্শীদেরই কেউ ফোন করে খবর দেন পুলিশ।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশবাহিনী। এক কনস্টেবল ধরে ফেলেন আততায়ীকে। তার হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয় ছুরি। পুলিশ জানিয়েছে, এই গণেশ পেশায় একজন শ্রমিক। তার ছুরির কোপে যাঁর মৃত্যু হয়েছে তিনিও একজন শ্রমিক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা চলাকালীন সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়াও গণেশের ছুরির আঘাতে গুরুতর জখম অবস্থায় আইসিইউ-তে ভর্তি রয়েছেন আরও একজন। বাকিদের চোট-আঘাত ততটা মারাত্মক নয়।
ধৃত গণেশ কেন এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে তা জানার চেষ্টায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পাশাপাশি ধৃতের বিরুদ্ধে খুন এবং খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গণেশের মানসিক ভারসাম্য সঠিক কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ সাধারণত এমন কাজ করবে না যদি না তার কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য থাকে। এছাড়াও গণেশের এ হেন আচরণের পিছনে অন্য কোনও কারণ থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। তদন্তে নেমে সবটাই খতিয়ে দেখছে তারা।